শক্ত ঘাঁটিতে কি এ বার নাড়া পড়ল?
উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের অন্যতম ‘দুর্গ’ দেগঙ্গায় আচমকা বড়সড় আঘাত করেছে আইএসএফ। তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতাকে দলে টেনে বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট দিয়ে দেগঙ্গাতেই প্রার্থী করে দিয়েছে আইএসএফ। তার পরেই দেগঙ্গা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
অনেকেই মনে করছেন, ভাঙড়ের আরাবুল ইসলামের মতোই দেগঙ্গায় মহম্মদ মফিদুল হক সাহজি ওরফে মিন্টুকে দলে টেনে কলকাতার আশপাশে তৃণমূলকে ভাল ধাক্কা দিয়েছে আইএসএফ তথা নওশাদ সিদ্দিকীর দল। গত সোমবার ফুরফুরা শরিফে গিয়ে আইএসএফে যোগদানের পরে দেগঙ্গায় প্রথম জনসভা করেন মিন্টু। কার্যত জনজোয়ার দেখা যায় সভায়। যদিও দেগঙ্গায় তৃণমূলের প্রার্থী আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশের দাবি, তৃণমূলের জনসভায় তার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষ হবে। মিন্টুর দল ছাড়ার ঘটনাকে তাঁরা কোনও গুরুত্ব দিতেই রাজি নন বলে দাবি বিদেশের।
বাম বা তৃণমূল, দুই আমলেই দেগঙ্গা ছিল শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি। বারাসত কেন্দ্রে লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সব চেয়ে বেশি ‘লিড’ আসে দেগঙ্গা থেকেই। সেখান থেকেই এ বার দলের পুরনো ও জনপ্রিয় নেতা মিন্টুকে কেড়ে নিয়েছে আইএসএফ। কেন্দ্রের খবর, মিন্টু ছিলেন দেগঙ্গার আদি তৃণমূল। বাম আমলে ২০০৬ সালে তিনি তৃণমূলের হয়ে ফরোয়ার্ড ব্লকের বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বল্প ব্যবধানে হেরে যান। আইএসএফের দাবি, দেগঙ্গায় তৃণমূলের ভোট লড়ার কৌশল, তাদের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে ভীষণ ভাবে চেনেন মিন্টু। ফলে, দেগঙ্গায় আইএসএফ তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দেবে বলেই দাবি কর্মীদের।
ভোটের টিকিট নিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে মিন্টুর মতবিরোধ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। সামগ্রিক ঘটনায় তৃণমূল স্থানীয় ভাবে চাপে পড়েছে বলেই খবর। দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে যে ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, তার মধ্যে বারাসত-১ ব্লকে কদম্বগাছি ও কোটরা, এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। মিন্টু সেই ভোট-ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারেন, এমন আশঙ্কা করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে তৃণমূলও। আজ, বুধবার সেখানে বিশেষ দলীয় সভা ডেকেছে শাসকদল।
দেগঙ্গা ব্লকের ন’টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে আইএসএফ, সিপিএমের মতো বিরোধী দলগুলির শক্তি বেশ ভাল। যদিও তৃণমূলের কদম্বগাছি গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি নিজামুল কবীরের দাবি, ‘‘যিনি চলে গিয়েছেন, তাঁর কথা ভেবে লাভ নেই। প্রার্থীকে জেতাতে সবাইকে একসঙ্গে ঝাঁপাতে হবে।’’ সূত্রের খবর, কদম্বগাছিতে অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা এক দাপুটে নেতাকেও ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী কাছে ডেকেছে।
উল্লেখ্য, দেগঙ্গায় বিদায়ী বিধায়ক রহিমা মণ্ডল। মিন্টু ও বিদেশ, দু’জনেই রহিমার কাজ সামলেছেন। বিদেশের অবশ্য দাবি, ‘‘লোকসভায় জয়ের ৭৫ হাজারের ব্যবধানও এ বার ছাড়িয়ে যাবে। মিন্টু উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। তাঁর পরিবারের লোকজন এখনও তৃণমূলের পদে রয়েছেন। সব পেয়েও মিন্টু সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কিন্তু ভোট হবে দলনেত্রীর প্রতীকে।’’
মিন্টু স্বীকার করছেন যে, তৃণমূলে টিকিট না পাওয়ায় তিনি আইএসএফে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘এখানে যখন বামফ্রন্টের দিকে কেউ তাকানোরও সাহস পেতেন না, আমি তখন তৃণমূলের টিকিটে লড়েছি। তবে, দল ছেড়েছি শুধু টিকিটের জন্য নয়। কর্মীদের একাংশের উপরে অত্যাচার চলছে। আমি প্রতিবাদ করতে চেয়েছি। ঠিক রাস্তায় চলেছি বলেই শুরুর দিন থেকে প্রচারে মানুষের ঢল নেমেছে। আমি অবাক হয়েছি এত লোক দেখে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)