E-Paper

ভোটের ৭ দিন আগেও নাম জুড়বে? বিবেচনার ইঙ্গিত

নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমার শেষ দিনে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলা হয় বা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তার পরে আর ভোটার তালিকায় কারও নাম যোগ হয় না, বা নাম বাদ পড়ে না। ওই তালিকার ভিত্তিতেই ভোটগ্রহণ হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ০৫:৩৬

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের সাত দিন আগে পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম যোগ হওয়ার আবেদন ‘বিবেচনা’করা হবে বলে বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আজ প্রধান বিচারপতিসূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে রাজ্য সরকারআর্জি জানিয়েছে, ভোটের আগে যে সব ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারেরভাগ্যের নিষ্পত্তি হবে না, তাঁদের যেন ভোট দিতে দেওয়া হয়। কারণ, তাঁরা সকলেই ‘ম্যাপড’ ভোটার। গত নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়েকোনও মন্তব্য করেনি। তবে ভোটার তালিকায় নাম যোগ হওয়ার সময়সীমা আগামী দিনে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে।

জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমার শেষ দিনে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলা হয় বা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তার পরে আর ভোটার তালিকায় কারও নাম যোগ হয় না, বা নাম বাদ পড়ে না। ওই তালিকার ভিত্তিতেই ভোটগ্রহণ হয়।

আজ পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আইনজীবী শ্যাম দিভান যুক্তি দিয়েছেন, ভোটার তালিকার যে ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ ছিল, তার মধ্যে মাত্র ২৭ লক্ষের ক্ষেত্রে ফয়সালা হয়েছে। সোমবার মধ্যরাতে নির্বাচন কমিশন সেই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ। তার মনোনয়নের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণে মনোনয়নের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। গত ৩০ দিনে যে গতিতে বিবেচনাধীন মামলাগুলির নিষ্পত্তি হয়েছে, তাতে কোনওভাবেই ৬ ও ৯ এপ্রিলের আগে পুরো কাজ শেষ হবে না। তাই ভোটগ্রহণের সাত দিন আগে, অর্থাৎ প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ১৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে ২২ এপ্রিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত বা ‘ফ্রিজ়’ করা হোক। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘আমরা বিবেচনা করব।’’ বিচারপতিরা ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী শুনানিতে কতটা কাজ এগিয়েছে, তা দেখে নিয়ে এ বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা হবে। ১ এপ্রিল ফের শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘ভোটের আগে যদি কোনও ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় কেটে যায়, তা হলে তিনি ভোট দিতে পারবেন।’’ আবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ১৫ মার্চ যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে যদি ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষ ভোটারের সকলের ভাগ্য নির্ধারণ না হয়, তা হলে তাঁদের কী হবে, তখন তিনি বল ঠেলে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের দিকে।

এ দিন দিভানের আর্জি ছিল, ওই সময়ের মধ্যেও যে সব বিবেচনাধীন ভোটারের ভাগ্যের ফয়সালা হবে না, তাঁদের ভোটার অধিকার রক্ষা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এ নিয়ে মন্তব্য করেনি। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, এই দুটি বিষয়েই আদালতের হস্তক্ষেপ দরকার। বিচারপতি বাগচী বলেন, যে ১৫২টি কেন্দ্রের প্রথম দফায় ভোট, সেই কেন্দ্রগুলির ‘বিবেচনাধীন’ প্রার্থীদের নাম আগে বিবেচনা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

পশ্চিমবঙ্গের অনেক প্রার্থীর নামও ‘বিবেচনাধীন’। ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে তাঁরা প্রার্থী হতে পারবেন না। দিভান বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দলের ১৪ জন প্রার্থীর নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে। সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রেই ‘বিবেচনাধীন’ নামের আগে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ নিয়েও কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। দ্রুত কাজ সারতে জেলায় না গিয়ে এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত ভিন রাজ্যের বিচারকরা কলকাতায় বিচারবিভাগীয় অ্যাকাডেমিতে বসেই কাজ করতে পারেন বলে সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর আর্জি ছিল, যখন যেমন নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে, সেই অনুযায়ী নিয়মিত অতিরিক্ত তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট) প্রকাশ করা হোক।অবিলম্বে আপিল ট্রাইবুনাল চালু হোক। যাতে কারও নাম খারিজ হলে তিনি আপিল করার সময় পান। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রস্তাব দিয়েছেন, রোজ অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের জন্য। তৃণমূলের মামলাকারীদের হয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সোমবার মধ্যরাতে কমিশন অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু মোট কত জনের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, কত জনের নাম বাদ গিয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলিকে এই তালিকার ‘সফট কপি’দেওয়া উচিত।

আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি সব রাজ্যে এসআইআর মসৃণ ভাবে হয়ে গিয়েছে। একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এত সমস্যা, এত মামলা-মোকদ্দমা। অনেক রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদের হারও বেশি। কল্যাণ বলেন, একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) অবতারণা করা হয়েছে। এবং পশ্চিমবঙ্গেই ভোট ঘোষণার পরে মধ্যরাতে মুখ্যসচিব ও রাজ্যপুলিশের ডিজি-কে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy