গত বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরে গেলেও অভিযোগ উঠেছিল, লোডশেডিংয়ের সুযোগে তাঁর বিরুদ্ধে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই এ যাত্রায় যাতে জয়ে কোনও ‘দাগ’ না থাকে, তাই মমতাকে হারাতে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও লড়ার প্রস্তাব বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তা মেনে নিয়ে, প্রথম প্রার্থী-তালিকায় একমাত্র তাঁকেই দু’টি আসনে লড়ার অনুমতি দেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা।
দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শুভেন্দু দলের কাছে বলেছিলেন, তিনি জেতার পরে গত পাঁচ বছর তাঁর জয়কে তৃণমূল লোডশেডিংয়ের জয় বলে প্রচার করেছে। তাই তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে মুখ্যমন্ত্রী যে কেন্দ্রে দাঁড়াবেন, সেই কেন্দ্রে দাঁড়ানোর আবেদন করেছিলেন। দল তা মেনে নিয়েছে।’’ একই সঙ্গে শমীকের দাবি, তৃণমূল নন্দীগ্রামে দুর্বল প্রার্থী দিয়ে মমতাকেই কঠিন লড়াইয়ে ফেলে দিয়েছে। শমীক বলেন, ‘‘এমন এক জন প্রার্থী হলেন, যিনি ভোট ঘোষণার দিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূলের কোনও প্রস্তুতি ছিল না। এতে শুভেন্দু ভবানীপুরে অনেক বেশি সময় দিতে পারবেন এবং মমতাকে হারাতে সক্ষম হবেন।’’ তা ছাড়া ভবানীপুরে মমতার ভিত এ বার নড়বড়ে বলেও দাবি শমীকের। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিনি, এলাকার মেয়ে। তার পরেও যে ভাবে তিনি বলছেন ‘৩৬৫ দিন ভবানীপুরের জন্য কাজ করি’, তা আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছে, তিনি পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।’’
পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নিজের ঘর যে ভাঙছে, তা-ই বুঝতে পারেননি শুভেন্দু। তৃণমূল যাঁকে প্রার্থী করেছে, তিনি শুভেন্দুর কর্মপন্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। ফলে এত সহজে নন্দীগ্রামে ওয়াকওভার পাবেন না শুভেন্দু। শেষ পর্যন্ত হয়তো দেখা যাবে, শুভেন্দুর ভবানীপুরও যাবে, নন্দীগ্রামও যাবে। এমনকি রাজ্য বিজেপির একটি অংশ এখন তেমনই চাইছে বলে তৃণমূল নেতাদের দাবি।
আজ বিজেপির বাকি প্রায় দেড়শো প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করতে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক হয়। এ দিন দুপুরে ও বিকেলে কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পরে রাত ৮টা থেকে জে পি নড্ডার বাড়িতে বৈঠক শুরু হয়। ছিলেন অমিত শাহ। আগামিকাল তালিকা চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। বৃহস্পতিবার প্রকাশ হতে পারে দ্বিতীয় তালিকা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)