Advertisement
E-Paper

রাজ্যে হাওয়া বদলের পরেই পরনে গেরুয়া জামা কেন? নতুন সরকারের থেকে চারটি দাবি স্পষ্ট করলেন শিলাজিৎ

কোনও দিন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি গায়ককে। কিন্তু এ বার কি তিনি গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে। কী উত্তর দিলেন শিলাজিৎ?

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ২০:২৭
নতুন সরকার আর গেরুয়া জামা নিয়ে কী বললেন শিলাজিৎ?

নতুন সরকার আর গেরুয়া জামা নিয়ে কী বললেন শিলাজিৎ? ছবি: সংগৃহীত।

শিলাজিৎ মজুমদারের পরনে কেন গেরুয়া জামা? মঙ্গলবারের পর থেকে এই প্রশ্ন উঠছে দিকে দিকে। কোনও দিন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি গায়ককে। কিন্তু এ বার কি তিনি গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে । মঙ্গলবার নিজের ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’-এর হল ভিজ়িটে একটি গেরুয়া রঙের জামা পরে যাওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা। শিলাজিৎকে এই প্রশ্ন করা হলেই, তাঁর সটান উত্তর, “কোনও রং-এর উপরে নির্দিষ্ট কারও মালিকানা নেই।”

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ছবির প্রচার নিয়ে ব্যস্ত শিলাজিৎ। প্রতিদিন নতুন কোনও পোশাক পরছেন। বিস্তর খরচ হচ্ছে। এর মধ্যেই খুঁজে পান একসময় আমেরিকা থেকে নিয়ে আসা কমলা রঙের জুতো। একেবারে আনকোরা রাখা ছিল। সেই জুতোর রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেন কমলা রঙের ফতুয়া ও ঘিয়ে রঙের প্যান্ট। জানান শিলাজিৎ। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “গানের অনুষ্ঠানে আমি কোঁচকানো জামা পরেও মঞ্চে উঠে পড়ি। কিন্তু ছবির প্রচারের ক্ষেত্রে একটু সেজেগুজে যাই। দেখলাম কমলা রঙের জুতোর সঙ্গে জামার রংটা মিলে গিয়েছে, তাই পরে নিলাম। এ বার যে যার মতো বুঝবে। না বুঝলে খুঁজবে!”

জোর দিয়ে শিলাজিৎ জানান, তাঁকে গত কয়েক বছরে কোনও রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ হতে কখনওই দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মঞ্চে কখনও গাইতেও যাননি। নিজের সুবিধা পেতে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে হাতও পাতেননি। তবে নতুন সরকারের কাছে কিছু আশা করছেন তিনি। গায়কের স্পষ্ট বক্তব্য, “কোনও রাজনৈতিক দলের থেকে আমি কোনও রকমের সুবিধা চাইনি। আমাকে তো সঙ্গীত মেলাতেও ডাকা হয় না। কারও আমলে হয়তো দু-একবার গাইতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার সঙ্গে মেলেনি, আমি আর যাইনি।”

নিজের গানের জগতের জন্য কোনও সুবিধা নেননি বলে জানান তিনি। তবে নিজের পরিবারের তৈরি করা স্কুলের সংস্কারের জন্য বার বার ভিন্ন রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হয়েছেন শিলাজিৎ। অকপটেই তা স্বীকার করেন গায়ক। আশানুরূপ উত্তর কি পেয়েছেন তাঁদের থেকে? তিনি বলেন, “আমি কোনও দিন কোনও সুবিধা নিইনি। শুধু বীরভূম জেলায় আমার গ্রামের স্কুলের জন্য কিছু রাজনৈতিক মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। গ্রামে আমার ও আমার পরিবারের মানসম্মান আছে। আমার গ্রামে আমার ঠাকুরদার যথেষ্ট অবদান রয়েছে। সরকারি চাকরি ছেড়ে এসে মানুষের স্বার্থে ঠাকুরদা ও তাঁর বাবা গ্রামে স্কুল ও হাসপাতাল করতে চেয়েছিল। সেই স্কুল ও হাসপাতালকে রক্ষা করার জন্য আমি চেষ্টা করেছি।”

এই বেশে মঙ্গলবার দেখা যায় গায়ককে।

এই বেশে মঙ্গলবার দেখা যায় গায়ককে। ছবি: সংগৃহীত

বহু চেষ্টা করেও স্কুলের সংস্কার হয়নি বলে জানান শিলাজিৎ। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি। তাঁর কথায়, “গ্রামের জন্য যোগাযোগ করেছি। কিন্তু সদুত্তর পাইনি। স্কুলটার অবস্থা চোখে দেখা যায় না। স্কুল বিল্ডিংটাই ভেঙে গিয়েছে। তার পরেও সরকারের থেকে একটা টাকা আসেনি। সৌভাগ্যবশত, রাতে স্কুলটা ভেঙে পড়়েছিল। তখন কেউ ছিলেন না স্কুলে। কিন্তু তার পরেও কারও টনক নড়েনি।”

এ বার যাঁরা ক্ষমতায় এসেছেন, তাঁদের কাছেও স্কুলের সংস্কারের জন্য আবেদন করবেন শিলাজিৎ। তাঁর প্রত্যাশা, “প্রতি বারের মতো এ বারও আশা করব, গ্রামের প্রান্তিক মানুষের জন্য কেউ কিছু করবেন। হাইওয়ে-র উপরে স্কুলটার অবস্থা ফিরলে বহু প্রান্তিক ছেলেমেয়ে উপকৃত হবে।”

নতুন সরকারের থেকে নাগরিক হিসাবে কয়েকটি চাহিদা রয়েছে শিলাজিতের। গায়ক বলেন, “সব দলেই দুর্বৃত্তরা থাকে। তারা যেন শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো জায়গা থেকে আর সুবিধা ভোগ করতে না পারে। দ্বিতীয়ত, কলকাতা শহরের দৃশ্যদূষণ রোধ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের ছবি থাকলে চলবে না।”

শিলাজিৎ আরও বলেন, “তৃতীয়ত, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। চতুর্থত, ভাতার দরকার নেই। জাতি-ধর্ম-শ্রেণি নির্বিশেষে প্রত্যেক মহিলা যেন সুষ্ঠু ভাবে সমস্ত পরিষেবা পেয়ে হাসপাতালে সন্তানধারণ করতে পারেন। মা হওয়ার দিনটিতে যেন প্রত্যেক মহিলা সেরা পরিষেবা পান। এইগুলো করতে পারলে মানুষের আশীর্বাদ পাবেন।”

Silajit Majumder BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy