লোকসভায় ভোটাভুটিতে কেন্দ্রের শাসক দলের পরাজয় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বাড়তি অক্সিজেন দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে—আজ রাতে এমনটাই দাবি করেছে তৃণমূল।
রাজ্যগুলিতে বিধানসভা ভোট চলার মাঝেই সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আসন পুর্নবিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিলকে একত্র করে এনে চমক দেখাতে চেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু প্রকারান্তরে তা বুমেরাং হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকেই বঙ্গ রাজনীতিতে সুবিধা করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক শিবিরও। সূত্রের দাবি, তিন দিন আগেই পোড় খাওয়া রাজনীতিক তৃণমূল নেত্রী বিষয়টির গুরুত্ব আঁচ করতে পারেন। আর তাই ভোটের ভরা মরসুম সত্ত্বেও একুশ জন সাংসদকে দিল্লিতে পাঠান তিনি। সেই সঙ্গে এটাও তাঁর দলের সংসদীয় নেতৃত্বকে জানিয়ে দেন, হাতে মাত্র দেড় দিন আছে। ভোটের আগের এই সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, নষ্ট করা যাবে না। যে কোনও ভাবে বিজেপিকে অধিবেশন কক্ষে হারাতে হবে। গোড়া থেকে তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে অগ্রণী না হওয়ায় প্রাথমিক ভাবে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। মাঝে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করায় উষ্মাও তৈরি হয়েছিল দলের অন্দরে। প্রথমে স্থির ছিল, মাত্র পাঁচ সাংসদ উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু মমতা শেষ মুহূর্তে সক্রিয় হন এবং কার্যত নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি সাংসদদের দিল্লি যেতে নির্দেশ দেন। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, মমতা প্রথম হাওয়া তুলেছেন, ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশের ভোটে বিজেপি হারবে এবং তার পরই নরেন্দ্র মোদীর পতন শুরু হবে। আজকের ভোটের ফলাফলের পর সেই ‘পতনবিন্দু’ এগিয়ে এসে রাজ্যের ভোটকেও প্রভাবিত করবে বলে আশা করছে তৃণমূল।
আজ লোকসভায় যখন এই বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, দমদমে ভোটপ্রচারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন “ডিলিমিটেশন (আসন পুনর্বিন্যাস) ও মহিলা সংরক্ষণ বিল এক সঙ্গে আনছে। মহিলাদের এত অসম্মান করো না। আমাদের এখানে পঞ্চায়েত, পুরসভায় ৫০% করে মহিলা সংরক্ষণ রয়েছে। আমাদের সাংসদদের মধ্যে ৩৭% মহিলা। মহিলা বিলের সঙ্গে অন্য কিছু আনতে যেয়ো না। মহিলা বিল আমরা সমর্থন করব, কিন্তু ডিলিমিটেশনের সঙ্গে নয়।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আগামী দিনে নিজেরা হারবে, তাই দেশকে টুকরো-টুকরো করার চেষ্টা করছে। বঙ্গভঙ্গ করারও পরিকল্পনা রয়েছে। তাই ডিলিমিটেশন আমরা মানি না।” লোকসভায় ভোটাভুটির পর তৃণমূল শিবিরে আজ জয়ের আমেজ। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “মহিলা সংরক্ষণ আমাদের জোরের জায়গা। আজ বিলটিকে গো-হারা হারানোর পরে এই জয়ের রেশ জেলায় জেলায় আমাদের নেতা-কর্মীদের বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চাঙ্গা করবে।’’
আজ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “নরেন্দ্র এবং অমিতের শেষে শুরু হল আজ।” ভোটাভুটি হয়ে যাওয়ার পর কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডেরেককে। আপ, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, এসপি-র মতো দলের সঙ্গে গত তিন দিন নিয়মিত সমন্বয় করে গিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব, সংখ্যা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সক্রিয়ও থেকেছেন। এই বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমাদের পরামর্শ, বর্তমানে যে আসনসংখ্যা রয়েছে, তার উপর ৫০শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ করে দেওয়া হোক। একই ভাবে মন্ত্রিত্বেও ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ করা হোক। নির্মলা সীতারামন একা কেন থাকবেন! প্রধানমন্ত্রীর আসনও মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হোক!” কল্যাণের কথায়, “এ সব বিজেপি-র করার হিম্মৎ নেই, কারণ তারা মহিলাকেসম্মান করে না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)