শুভেন্দু অধিকারীর জেলা বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক হিমাংশু লালের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলল তৃণমূল। মঙ্গলবার তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনের কাছে এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভবানীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। এ ছাড়াও ওই জেলার ১৬টি বিধানসভা আসনেও তাঁর নজর রয়েছে। তাই এ বিষয়ে শুভেন্দু এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ পর্যবেক্ষকের যোগসাজশের ইঙ্গিত করেই ওই পুলিশকর্তার অপসারণ চাইছে বাংলার শাসকদল।
তৃণমূলের অভিযোগ, নিরপেক্ষতার বদলে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করছেন ওই বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, কোনও লিখিত নির্দেশ ছাড়াই তিনি বিভিন্ন থানার পুলিশ আধিকারিকদের মৌখিক ভাবে নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চাপ সৃষ্টি করছেন। দলের তরফে অভিযোগ, মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর যখন নির্বাচনী প্রচার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, ঠিক সেই সময় তৃণমূলের বুথস্তরের কর্মী ও সংগঠকদের ডেকে পাঠানো বা আটক করার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি প্রভাব পড়ছে বলে দাবি তাদের। তৃণমূলের মতে, এই পদক্ষেপ পরিকল্পিত ভাবে সংগঠনের কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়াও, পুলিশ প্রশাসনের উপর ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে। তৃণমূলের দাবি, হিমাংশু লালের চাপে পুলিশ আধিকারিকেরা চাকরিতে সমস্যা বা বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পারছেন না। একতরফা ভাবে তৃণমূল কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। শাসকদলের আরও দাবি, এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হচ্ছে। যেখানে তৃণমূল বাধার মুখে পড়ছে, সেখানে বিজেপি অবাধে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে। ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রচারের সময় সংগঠকদের সরিয়ে দিয়ে প্রচার ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাদের।
এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমত, অবিলম্বে হিমাংশু লালকে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষকের পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের উপর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চালাতে হবে। তৃতীয়ত, পুলিশ প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কমিশনকে কড়া নির্দেশ জারি করতে হবে। উল্লেখ্য, এই অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, পুলিশ মহাপরিচালক এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।