Advertisement
E-Paper

জোড়াফুলের ‘দুর্ভেদ্য দুর্গে’ হানা পদ্মের! দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ-সহ একঝাঁক পঞ্চায়েত প্রতিনিধি বিজেপিতে

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বর্তমান উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডলের নেতৃত্বে গোসাবা ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সদস্যেরা মঙ্গলবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২২:২১

— নিজস্ব চিত্র।

ভোটের মুখে তৃণমূলের সবচেয়ে ‘শক্ত ঘাঁটি’তে ভাঙন ধরাল বিজেপি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা এবং ক্যানিং-১ ব্লক থেকে পঞ্চায়েতের তিন স্তরের একঝাঁক জনপ্রতিনিধি এবং পদাধিকারী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন। মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গলায় উত্তরীয় পরিয়ে দিয়ে তাঁদের দলে স্বাগত জানালেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ জিতে তৃণমূলের উত্থান শুরু, সেই জেলা থেকেই এ বার তৃণমূলের পতন শুরু হচ্ছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করলেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বর্তমান উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডলের নেতৃত্বে গোসাবা ব্লকের একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সদস্যেরা মঙ্গলবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আর জেলা পরিষদের প্রাক্তন সহ-সভাধিপতি তথা বর্তমান ব্লক তৃণমূল সভাপতি শৈবাল লাহিড়ির নেতৃত্বে ক্যানিং-১ ব্লক থেকে বিভিন্ন স্তরের তৃণমূল পদাধিকারীরা বিজেপিতে শামিল হয়েছেন। তৃণমূলের জন্য গোসাবার ভাঙন বেশি অস্বস্তিকর। কারণ, সেখানে পঞ্চায়েত সমিতির দু’জন বর্তমান কর্মাধ্যক্ষ দল ছাড়লেন। ব্লক মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী দল ছাড়লেন। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান দল ছাড়লেন। দলত্যাগী পঞ্চায়েত সদস্যের সংখ্যা আরও বেশি। ক্যানিং-১ ব্লকে যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন, তাঁদের অধিকাংশই প্রাক্তন প্রধান, প্রাক্তন উপপ্রধান বা পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ। গোসাবা এবং ক্যানিং থেকে কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা পদ্ম-পতাকা হাতে তুলে নেন।

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যে জেলার সাংসদ এবং যে জেলাকে গোটা রাজ্যে তৃণমূলের সবচেয়ে ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ মনে করা হয়, সেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলে বিজেপি ভাঙন ধরাচ্ছে, এ ছবি সাধারণ নয় বলে রাজ্যের রাজনৈতিক শিবিরের অনেকে মনে করছেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথম বার রাজ্যে কোনও জেলা পরিষদের দখল নিতে পেরেছিল তৃণমূল। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের জেরে পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের দখলে যেতে পারে, সে ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। কিন্তু অনেককে চমকে দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদও সে বার তৃণমূলই দখল করেছিল। মঙ্গলবার বিকেলে যোগদান পর্ব মিটিয়ে শুভেন্দু নিজেও সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বরাবরই এ রাজ্যের ভোটের প্রবণতা বুঝিয়ে দেয়। পূর্ব মেদিনীপুরে তো আমরা এমনিতেই জিতে রয়েছি। এ বার দক্ষিণ ২৪ পরগনাও বার্তা দেওয়া শুরু করল।’’ শুভেন্দুর কথায়, ‘‘গোসাবা ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস শূন্য হয়ে গেল বলতে পারি। গোটা সুন্দরবনে এ বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা খাতা খুলতে দেব না। সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ থেকে সাগর পর্যন্ত একটা আসনও তৃণমূল পাবে না। আজ তার সূচনা করলাম।’’

Advertisement

যাঁরা মঙ্গলবার বিজেপিতে যোগ দিলেন, তাঁরা ‘উপযুক্ত রাষ্ট্রবাদী বিকল্পের সন্ধানেই’ বিজেপিতে যুক্ত হলেন বলে শুভেন্দু মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিজেপিতে যোগদানের আবেদন আসছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘কেউ আমার সঙ্গে, কেউ সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে, কেউ বিপ্লব দেবের সঙ্গে, কেউ শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আমরা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের মতামত নিয়ে স্থির করেছি যে, কাদের দলে স্বাগত জানানো যায়।’’ যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, খুন-জখম বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ নেই, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তাঁদেরই দলে নেওয়া হল বলে শুভেন্দু জানিয়েছেন।

BJP TMC gosaba South 24 Parganas West bengal Assembly
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy