আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বুথের ভিতরে এবং বাইরে নজরদারি চালাবে নির্বাচন কমিশন। আর এই কাজে তারা ব্যবহার করছে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। বুথের ভিতর নির্ধারিত লোকজন ছাড়া অতিরিক্ত এক জনও প্রবেশ করলে মাইক্রো অবজার্ভারদের জানান দেবে এআই। এমনকি, কেউ যদি ইভিএম যন্ত্রের সামনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি থাকেন, তা হলেও জানান দেবে এআই। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথের ভিতর থাকবেন এক জন প্রিসাইডিং অফিসার, তিন জন পোলিং অফিসার এবং প্রার্থীপিছু এক জন পোলিং এজেন্ট।
বুথের ভিতরে একটা এবং বাইরে একটা করে ওয়েবক্যাম বসানো থাকবে। যেখানে একটায় হবে না, সেখানে বুথের বাইরে একাধিক ক্যামেরা থাকবে। সেই ক্যামেরায় তোলা ভিডিয়ো দেখা যাবে কন্ট্রোল রুমে। এআই কী ভাবে কাজ করবে? কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এআই মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁকে ‘মার্ক’ করতে পারবে। অর্থাৎ মানুষের অস্তিত্ব টের পেয়ে তাঁকে কাল্পনিক আয়তক্ষেত্র দিয়ে ঘিরে পর্দায় জানান দেবে।
কী ভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? ধরা যাক, বুথের ভিতরে ১০ জন লোকের থাকার কথা। দেখা গেল ১১ জন রয়েছেন। এআই সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমে জানাবে, ওই বুথে ১১ জন লোক রয়েছেন। ওই বুথের ছবি যে পর্দায় দেখা যাচ্ছিল, তা লাল হয়ে যাবে। এ বার পর্দায় ক্লিক করলে ওই নির্দিষ্ট বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের নম্বর ভেসে উঠবে। কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন চলে যাবে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হবে, কেন বুথে অতিরিক্ত কেউ প্রবেশ করেছেন।
আরও একটি কাজ করবে এআই। কেউ হয়তো ইভিএমের সামনে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি, ধরা যাক প্রায় ২ মিনিট দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তখনও কন্ট্রোল রুমে জানান দেবে এআই। ওই ব্যক্তিকে মার্ক করে রাখবে প্রযুক্তি। তার পরে কন্ট্রোল রুমে সিগন্যাল পাঠাবে। তখন সেই সেক্টর অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসারের নম্বর উঠে যাবে স্ক্রিনে। তাঁর কাছে ফোন যাবে কন্ট্রোল রুম থেকে।
আরও পড়ুন:
বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত মঙ্গলবার জানান, সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে বসে একসঙ্গে ৫০০টি বুথের ছবি দেখতে পারবেন মাইক্রো অবজার্ভারেরা। সেখানে ১০টি টেলিফোন লাইন থাকবে। টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে ৭২টি স্ক্রিন থাকবে পর্যবেক্ষণের জন্য। সেই সঙ্গে আরও ১৮টি স্ক্রিনে দেখা যাবে এসএসটি (স্ট্যাটিক সার্ভেলান্স টিম) এবং এফএসটি (ফ্লায়িং সার্ভেলান্স টিম)-র গাড়িতে বসানো ক্যামেরায় তোলা ছবি। প্রায় ২০০ জনের মতো মাইক্রো অবজ়ার্ভার থাকবেন সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে।
ফ্লাইং স্কোয়াড, কুইক রেসপন্স টিম, স্ট্যাটিক সার্ভেলান্স টিম বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সর্ব ক্ষণ থাকবে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট নজরদারি-গাড়ির মাথায় সবদিক দেখার ক্যামেরা লাগানো থাকছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কমিশনের কন্ট্রোল রুম থেকেই। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ-সহ এমন গাড়িগুলিতে থাকবে জিপিএস প্রযুক্তি। ফলে বোঝা যাবে, উপদ্রুত জায়গাগুলিতে আদৌ গাড়িগুলি ঘুরছে কি না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত