Advertisement
E-Paper

ধর্মকর্ম এড়িয়ে টিকে থাকা যাবে না! মত সিপিএমের অন্দরে, তবে সংখ্যালঘু মন পাওয়ার কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠল আলিমুদ্দিনে

রাজ্য রাজনীতির বর্তমান সমীকরণে ধর্মকর্মকে বাদ দিয়ে চলা যাবে না। সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে এই বার্তাই উঠে এল। সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মাচরণের মধ্যে ফারাক বোঝার উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সিপিএম নেতৃত্ব।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ২৩:৫৩

—প্রতীকী চিত্র।

বিধানসভায় এখন আর ‘শূন্য’ নয়। খাতা খুলেছে সিপিএম। শুরু হয়েছে ভোটের ফলাফল নিয়ে কাটাছেঁড়াও। শনিবার থেকে দলের রাজ্য কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। দু’দিনের এই বৈঠকের প্রথম দিনেই বিভিন্ন জেলার আলোচনায় উঠে এসেছে— ধর্মকর্ম এড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ল়ড়াই করতে হবে। কিন্তু ধর্মাচরণকেও মর্যাদা দিতে হবে।

সিপিএমের অভিধানে এই বিশ্লেষণ নতুন নয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা পুনরায় ফিরে এল রাজ্য কমিটির বৈঠকে। এমনকি দলের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবিও দলের দলিলের কথা উল্লেখ করে তাতে সিলমোহর দিয়েছেন। সূত্রের খবর, বেবি বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মাচরণের মধ্যে যে আকাশপাতাল পার্থক্য রয়েছে তা দলকে বুঝতে হবে। সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে হবে। এর বাইরে বেবি কিছু বলেননি। তবে সিপিএমের অনেকের বক্তব্য, আসলে যা বলতে চাওয়া হয়েছে তা হল— পুজো কমিটি, মন্দির কমিটি, মসজিদ কমিটি বা গির্জা কমিটিতে দলের লোকেদের সম্পৃক্ত হয়ে থাকতে হবে। কোনও ছুৎমার্গ রাখা চলবে না।

একই সঙ্গে সংখ্যালঘু মন পেতে সিপিএম যে কৌশল নিয়েছিল, তা আদৌ দলের জন্য মর্যাদাকর হবে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে রাজ্য কমিটির বৈঠকে। কারণ, এ বারের নির্বাচনে বামফ্রন্টের অন্যতম সমর্থিত শক্তি এসডিপিআই। সাগরদিঘির মতো আসনে তারাই লড়েছিল। বামফ্রন্ট তাদের সমর্থন করেছিল। ক্যানিং পশ্চিম আসনে তৃণমূল থেকে আসা আরাবুল ইসলাম লড়েছিলেন আইএসএফের হয়ে। আবার পূর্ব মেদিনীপুরের একটি আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক নীরঞ্জন সিহি। কিন্তু আইএসএফ-এর চাপে তাঁকে প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করতে হয়। ওই আসনে লড়ে আইএসএফ।

এ অবস্থায় সার্বিক রাজনীতির চালচিত্রে সিপিএম মুসলিম মৌলবাদীদের সঙ্গে সম্পক্ত হয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনের সময়ে আইএসএফ-এর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে সিপিএমের একাংশের ছুৎমার্গ ছিল। তার অন্যতম কারণ ছিল, আব্বাস সিদ্দিকীর বিভিন্ন ‘মৌলবাদী’ কথাবার্তা। কিন্তু এ বারের ভোটে আব্বাস প্রচারের ময়দানে ছিলেন না। আইএসএফ-এর প্রচারের মুখ ছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী, যিনি গত পাঁচ বছরে ধর্মকে বাদ দিয়ে রুটিরুজির কথা বলেছেন। কিন্তু তার পরেও আরাবুলকে আইএসএফ প্রার্থী করা বা নীরঞ্জনের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার হওয়ার মতো ঘটনা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সিপিএমের অন্দরে। দীর্ঘমেয়াদে সিপিএমের ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভোটারেরা দলের সঙ্গে কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এর বিপরীতের ব্যাখ্যায় ডোমকল আসনের কথাও উঠে আসছে। ডোমকল থেকে জিতেই বিধায়ক হয়েছেন সিপিএমের মুস্তাফিজুর রহমান (রানা)। সেখানে সংখ্যালঘু ভোটারের হার উল্লেখযোগ্য। সিপিএমের অন্দরে অনেকে এ-ও বলছেন, এই সমীকরণে না গেলে বিধানসভায় আসন পাওয়ার পথ আরও কঠিন হত।

CPIM Left Front
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy