Advertisement
E-Paper

ফিন-গ্রিনের ঝড়, রঘুবংশী দোসর! ২২ ছক্কায় শুভমনদের উড়িয়ে প্লে-অফের দৌড়ে কেকেআর, জঘন্য বোলিং-ফিল্ডিং গুজরাতের

ইডেন গার্ডেন্সে ফিরে স্বমহিমায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে তারা টিকে থাকল প্লে-অফের দৌড়ে। প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর তুলেছিল ২৪৭/২। জবাবে গুজরাত থেমে গেল ২১৮/৩ স্কোরে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ২৩:৩০
cricket

অ্যালেন-রঘুবংশী জেতালেন কেকেআরকে। ছবি: পিটিআই।

ইডেন গার্ডেন্সে ফিরে স্বমহিমায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। শনিবার গুজরাত টাইটান্সকে হারিয়ে তারা টিকে থাকল প্লে-অফের দৌড়ে। বাকি দু’টি ম্যাচেও জিততে হবে তাদের। তবে গুজরাতের বিরুদ্ধে দলের ক্ষুধার্ত মানসিকতার পরিচয় পাওয়া গেল। তিন ব্যাটার জয় এনে দিলেন কেকেআরকে। ফিন অ্যালেন, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাট জেতাল কেকেআরকে। প্রথমে ব্যাট করে কেকেআর তুলেছিল ২৪৭/২। জবাবে গুজরাত থেমে গেল ২১৮/৩ স্কোরে। জিতল ২৯ রানে। ৯ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট হল কেকেআরের। দিল্লিকে টপকে উঠে এল সপ্তম স্থানে।

ম্যাচের আগে দুই বিশ্লেষণ অইন মর্গ্যান এবং অ্যারন ফিঞ্চ জানিয়েছিলেন, এই পিচে ১৮০-১৯০ উঠলেই লড়াকু স্কোর হবে। শুরুতে কেকেআরের ব্যাটিং দেখে তেমনই মনে হয়েছিল। কিন্তু অ্যালেন হাত খুলে মারা শুরু করতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। রঘুবংশী এবং গ্রিন তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন। গুজরাতও লড়াই ছাড়েনি। শুভমন গিল, জস বাটলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খারাপ বোলিং এবং ফিল্ডিং জিততে দিল না গুজরাতকে।

ফিন অ্যালেনের তাণ্ডব

এই ইডেনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শতরান ছিল অ্যালেনের। একই মাঠে এ দিন আবার শতরানের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। নজির গড়ে ফেলার সামনেও ছিলেন তিনি। অল্পের জন্য তা হয়নি। ৯৩ রানে ফিরতে হয় তাঁকে। কিন্তু অ্যালেন যে খেলা দেখালেন তাতে বোঝা গেল, তাঁর উপরে ভরসা রেখে ভুল করেনি কেকেআর। ঠিক আট দিন আগে দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো শতরান করেছিলেন। আবার একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস এল তাঁর ব্যাট থেকে। নিজের ইনিংসে ১০টি ছয় মেরেছেন কিউয়ি ব্যাটার। পেসার হোক বা স্পিনার, কাউকে ছাড়েননি। অবলীলায় মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন। অফ ফর্ম থাকায় দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। ফেরার পর আর চেনাই যাচ্ছে না তাঁকে।

রঘুবংশী-গ্রিনের জুটি

কেকেআরের ইনিংসে এই দুই ব্যাটারেরা কথা বলতেই হবে। গুজরাতের বোলারদের আত্মবিশ্বাসে যদি চিড় ধরানোর কাজটা করেন অ্যালেন, তা হলে তা পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কাজটা করেছেন রঘুবংশী এবং গ্রিন। অ্যালেন ফেরার সময় কেকেআরের স্কোর ছিল ১৩৯। তখনও আট ওভারের উপর খেলা বাকি ছিল। অথচ রান রেট একটুও কমেনি কেকেআরের। সৌজন্যে তরুণ রঘুবংশী এবং কেকেআরের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার গ্রিন। প্রথম জন চারটি চার এবং সাতটি ছয় মেরে ৪৪ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকলেন। গ্রিন তিনটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে করলেন ২৮ বলে ৫২। দুই ব্যাটারের ১০৮ রানের জুটি ম্যাচে কেকেআরের জয় নিশ্চিত করে দেয়।

গুজরাতের জঘন্য ফিল্ডিং

টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে কেকেআরের বিরুদ্ধে ইডেনে খেলতে এসেছিল গুজরাত। কী ভাবে তারা এতগুলি ম্যাচ জিতল তা নিয়ে বিস্ময় জাগতে পারে। শনিবার যে ফিল্ডিংয়ের নমুনা তারা দেখাল তা ভাবাই যায় না। শতরানের মুখে আউট হওয়া অ্যালেনের ক্যাচ দু’বার ফস্কেছে তারা। তিন ওভারের মাথায় জেসন হোল্ডার ঝাঁপিয়ে এক হাতে ক্যাচ নিতে গিয়ে ফস্কান। সপ্তম ওভারে লং অনে সিরাজের হাতে সহজতম ক্যাচ উড়ে এসেছিল। তিনি বল ভাল করে ধরতেই পারেননি। ১৬তম ওভারে ক্যাচ পড়ে ক্যামেরন গ্রিনের। রশিদ খানকে স্লগ সুইপ মেরেছিলেন গ্রিন। শেষ মুহূর্তে আর্শাদ খানের হাত থেকে বল পিছলে বেরিয়ে চার হয়ে যায়। ১৮তম ওভারে ক্যাচ ফেলার তালিকায় যোগ দেন ওয়াশিংটন সুন্দর। রঘুবংশীর মারা শটে ঠিক জায়গায় পৌঁছেও গিয়েছিলেন। হাঁটু মুড়ে ক্যাচ নিতে গিয়ে হাত থেকে বল গলে যায়।

রাবাডা, সিরাজদের দিশাহীন বোলিং

আগের পাঁচটি ম্যাচে বিপক্ষের রান ২০০-র ধারেকাছে যেতে দেয়নি গুজরাত। আগের ম্যাচেই হায়দরাবাদকে অলআউট করেছিল ৮৬ রানে। কলকাতার বিরুদ্ধে গুজরাত দেখাল তারা কতটা খারাপ বল করতে পারে। প্রথম দিকে মহম্মদ সিরাজ, কাগিসো রাবাডাদের বোলিং বেশ বেগ দিয়েছিল কলকাতাকে। এক বার অ্যালেন মার শুরু করতেই দিশেহারা হয়ে গেলেন গুজরাতের বোলারেরা। পেসার থেকে স্পিনার, কারও বল ঠিক জায়গায় পড়ল না। ব্যাটারদের চাপে রাখার কৌশল ভুলেই গিয়েছিলেন রাবাডা, রশিদ খানেরা। একমাত্র হোল্ডার বাদে বাকি পাঁচ বোলারে ওভারে ১০-এর বেশি রান দিয়েছেন। একেবারেই সাফল্য পাননি রশিদ। কোনও ঝাঁজই ছিল না গুজরাতের বোলিংয়ে। এর পুরোপুরি ফায়দা তুলেছেন কেকেআর ব্যাটারেরা।

বুড়ো হাড়ে ভেলকি নারাইনের

সুনীল নারাইন কি বুড়ো হবেন না? শনিবারের পারফরম্যান্সের পর আবার প্রশ্ন তুলতে পারেন সমর্থকেরা। ৩৭ বছরেও যে বলটা করছেন তিনি তা বেগ দেবে যে কোনও তরুণ বোলারকে। ইডেনে মার খেয়েছেন রশিদ, সাই কিশোরের মতো স্পিনার। সেখানে নারাইন ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ২৯ রান। নিলেন দু’টি উইকেটও, যার মধ্যে একটি শুভমনের। কেকেআরের হয়ে এ দিন ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। মনে রাখার মতো বল করলেন তিনি। ব্যাট করার ফাঁকে প্রশংসা জানিয়েছেন খোদ শুভমনও।

শুভমনের লড়াই ব্যর্থ

নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিলেন শুভমন। ইডেনে অনেক স্মরণীয় ইনিংস খেলেছেন কেকেআরের জার্সিতে। পুরনো দলের বিপক্ষে গুজরাতকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লক্ষ্য এতটাই বেশি ছিল যে কিছু করতে পারেননি। এমনকি জস বাটলার এবং হাতে চোট লাগা সাই সুদর্শনের প্রয়াসও কাজে লাগেনি। ব্যাটারেরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করলেও বোলারদের ব্যর্থতায় ডুবল গুজরাত।

সংক্ষেপে
  • ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। গত বছর প্রয়াত ১১ সমর্থকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বার হয়নি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
  • এখনও পর্যন্ত আইপিএলের গ্রুপ পর্বের ৭০টি ম্যাচের সূচি ঘোষণা হয়েছে। প্রথমে ২০টি ম্যাচের সূচি জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। পরে বাকি ৫০টি ম্যাচেরও সূচি ঘোষণা করেছে তারা। তবে প্লে-অফের সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
  • আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি, পাঁচ বার করে ট্রফি জিতেছে চেন্নাই সুপার কিংস এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতা নাইট রাইডার্স জিতেছে তিন বার। গত বছর প্রথম বার ট্রফি জিতেছিল বেঙ্গালুরু।
KKR Finn Allen Angkrish Raghuvanshi Cameron Green Shubman Gill Gujarat Titans
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy