তীব্র গরমে ঘাম এবং আর্দ্রতার কারণে মাথার ত্বকে ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জন্ম নিতে পারে। আর এক বার যদি সেই ছত্রাক বংশ বিস্তার করতে শুরু করে, তবে অচিরেই মুঠো মুঠো চুল উঠতে শুরু করবে মাথা থেকে। গরমে এই সমস্যার শিকার অনেকেই হন কিন্তু সমস্যাটি আসলে কী, তা বুঝতে না পারায় সঠিক চিকিৎসা করে উঠতে পারেন না। কয়েকটি বিষয় জানা থাকলে গরমে চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।
কেন এমন হয়?
ঘাম যখন চুলের গোড়ায় বসে শুকিয়ে যায়, তখন সেখানে ব্যাকটিরিয়া ও ছত্রাকের বংশবিস্তারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। ফলে চুলকানি, খুশকি, এবং চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। শুধু শ্যাম্পু দিয়ে ওই সংক্রমণ সবসময় দূর করা যায় না। তবে আশার কথা হল এক্ষেত্রে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
কী ভাবে প্রাকৃতিক ভাবে সমাধান?
১. নিম পাতার ব্যবহার: নিমের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ সর্বজনবিদিত। এক মুঠো নিম পাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল ঠান্ডা করে শ্যাম্পুর পর মাথা ধুয়ে নিন। এছাড়া নিম পাতা বাটা সরাসরি মাথার ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
২. আপেল সাইডার ভিনেগার: মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। এক কাপ জলে দুই টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে স্নানের শেষ ধাপে এটি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। এটি ছত্রাকের সংক্রমণ রুখতে এবং খুশকি দূর করতে ভাল কাজ করে।
৩. টি-ট্রি অয়েল: প্রাকৃতিক অ্যান্টি-সেপটিক হিসেবে টি-ট্রি অয়েল অতুলনীয়। নারকেল তেলের সঙ্গে ২-৩ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত জায়গাটিতে ম্যাসাজ করুন। এটি ছত্রাক নষ্ট করতে সরাসরি সাহায্য করে।
৪. লেবু ও আদার রস: লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং আদার অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান ছত্রাক দূর করে। লেবুর রস ও আদার রস মিশিয়ে মাথায় মেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা
১। প্রাকৃতিক চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রাতেও কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
২। ভেজা চুল কখনও বাঁধবেন না।
৩। অন্যের চিরুনি, তোয়ালে বা টুপি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
৪। গরমে বাইরে থেকে ফিরে ঘাম শুকােনোর পর অবশ্যই পরিষ্কার জলে মাথা ধুয়ে নিন।
ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই মাথার ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে সংক্রমণ যদি অত্যন্ত তীব্র হয় বা ক্ষতের সৃষ্টি করে, তবে দ্রুত চর্মরোগের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।