তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্ত। সোমবার বেশি রাতের দিকে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। বিবেক লিখেছেন, দলীয় নেতৃত্বের তরফে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।
জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক এ বারের নির্বাচনে টিকিট পাননি। তৃণমূল এ বার সেখান থেকে প্রার্থী করেছিল বিজয় উপাধ্যায়কে। তিনিও পরাস্ত হয়েছেন। পাঁচ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপির বিজয় ওঝা। এর পরে রাতেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দলের সব পদ থেকে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন বিবেক।
তৃণমূলের হিন্দিভাষী সেলের দায়িত্বে ছিলেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক। দলের ওই শাখার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর দিনাজপুরের হিন্দিভাষী এলাকায় সন্তোষজনক ফল করতে পারেনি তৃণমূল। পতন হয়েছে জোড়াফুল শিবিরের। এ অবস্থায় সোমবার রাতেই সমাজমাধ্যমে বিবেক লেখেন, “২০২৬ সালের ভোটে দলের ফলের সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি আমি। দলের এক জন নেতা হিসাবে আমি আমার ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছি। তাই দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলাম এবং নেতৃত্বের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছি।”
আরও পড়ুন:
এর পরে দ্বিতীয় একটি পোস্টে জোড়সাঁকোবাসীর উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন বিবেক। তিনি লেখেন, “জোড়সাঁকোর মানুষ তাঁদের মতামত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন। বিজয় ওঝাকে আগামী ৫ বছরের জন্য জোড়াসাঁকোর সেবা কারার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আশা করি তিনি মানুষের সেবা করবেন এবং তাঁদের জীবন আরও উন্নত করবেন। ২০২১-২০২৬ সাল পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে জো়ড়াসাঁকোর মানুষের সেবা করেছি। আজ, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক হিসাবে আমার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ করলাম।”
দেড় দশক পরে রাজ্যে ফের রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তৃণমূলের দুর্গে ধস নামিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ২০০টিরও বেশি আসন জিতে নিয়েছে তারা। তৃণমূলের আসন নেমে গিয়েছে ১০০-র নীচে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলেই সাংবাদিক বৈঠক করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়িতে ওই সাংবাদিক বৈঠকে মমতার সঙ্গে থাকবেন দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। হারের পরে তৃণমূলের তরফে কী বলা হয়, সে দিকে নজর রয়েছে সকলের। উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সেখানে চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত