Advertisement
E-Paper

শাহর এসআইআর আক্রমণ নিয়ে পাল্টা জবাব অভিষেকের, ‘লজিক‍্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ কেন? প্রশ্নের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত

শাহের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । উল্লেখ্য যে সময় তাঁর এই আক্রমণাত্মক পোস্টটি প্রকাশ্যে এসেছে সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে রয়েছেন ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:৫৪
(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) অমিত শাহ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের সংঘাত যুযুধান শিবিরের দুই শীর্ষ নেতার ।ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) নিয়ে রাজনৈতিক তরজা ক্রমেই চড়ছে। সম্প্রতি এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও শাসকদল তৃণমূলকে নিশানা করেন। তাঁর সেই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । উল্লেখ্য যে সময় তাঁর এই আক্রমণাত্মক পোস্টটি প্রকাশ্যে এসেছে সেই সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কলকাতা সফরে আসার কথা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “বিরোধী শাসিত তিন রাজ্য—তামিলনাড়ু, কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু তামিলনাড়ু বা কেরল থেকে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। সেই প্রেক্ষিতে তাঁর প্রশ্ন, যদি নির্বাচন কমিশন প্রভাবিত হত, তাহলে অন্য দুই রাজ্যে কেন অভিযোগ নেই? শাহর কথায়, “যেহেতু অভিযোগ একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আসছে, তাই সমস্যাটাও সেখানেই। তারা জানে তারা হেরে যাবে, তাই আগেভাগেই অজুহাত তৈরি করছে।”

শাহর এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই বিজেপি নেতারা ও সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘ভোটে হার নিশ্চিত’—এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

এরপরেই পাল্টা আক্রমণে নামেন অভিষেক । নিজের এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “মডারেটরের উচিত ছিল প্রশ্ন করা—কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ হিসেবে ১.২ কোটি কেস চিহ্নিত হয়েছে, যখন অন্য কোনও রাজ্যে তা নেই। এই বাছাই করে নজর দেওয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হয়, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নয়। কিন্তু, ‘গোদি মিডিয়া’ তো তাদের মতোই কাজ করবে।” অভিষেকের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধুমাত্র বিজেপিকেই নয়, একাংশ জাতীয় সংবাদমাধ্যমকেও নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও সেই বিষয়টি আলোচনায় আনা হয়নি। বরং বেছে বেছে রাজনৈতিক আক্রমণই করা হয়েছে।

তৃণমূলের একাংশ নেতৃত্বের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

অন্যদিকে বিজেপির দাবি, পুরো প্রক্রিয়াই স্বচ্ছভাবে চলছে এবং বিরোধীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল আগেভাগেই পরাজয়ের অজুহাত খুঁজছে। এসআইআর নিয়ে এই সংঘাত যে আগামী দিনে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য। ভোটের আগে এই ইস্যু যে বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।

Abhishek Banerjee Amit Shah
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy