Advertisement
E-Paper

‘ভোটে হেরে সাংবাদিক বৈঠকে কী বলবেন, স্থির করে রেখেছেন মমতা’! রাজ্যে এসে ‘চার্জশিট’ পেশের আগে কটাক্ষ শাহের

অমিত শাহ জানান, তামিলনাড়ু, কেরলেও এসআইআর হয়েছে। সেখান থেকে কোনও অভিযোগ আসেনি। সেখানে বিচারক রাখতে হয়নি। কেউ ধর্নায় বসেননি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:৪০
(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহ (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হার ‘নিশ্চিত’। ফলাফল ঘোষণার পরে সাংবাদিকদের কী বলবেন তৃণমূলনেত্রী, তা-ও স্থির করে ফেলেছেন। রাজ্যে এসে মমতার বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ পেশের আগে আরও আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস নাও’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর প্রশ্ন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর তামিলনাড়ু এবং কেরলেও হয়েছে। সেখানে বিজেপি-বিরোধী দলের সরকার রয়েছে। তাদের তরফে এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। তা হলে কেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেবল অভিযোগ উঠছে? তিনি এ জন্য মমতার দিকেই আঙুল তুলেছেন। আইপ্যাক-কাণ্ড থেকে নিয়োগ দুর্নীতি, সব নিয়েই শাহ আঙুল তুলেছেন তৃণমূলনেত্রীর দিকে।

রাজ্যে এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব মমতা। তিনি বার বার আঙুল তুলেছেন নরেন্দ্র মোদীর সরকারের দিকে। অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে মোদী-শাহের সরকার। এই নিয়েই শুক্রবার শাহ বলেন, ‘‘তামিলনাড়ু, কেরলেও এসআইআর হয়েছে। সেখান থেকে কোনও অভিযোগ আসেনি। না সেখানে বিচারক রাখতে হয়েছে, না সময়সীমা বাড়াতে হয়েছে! কেউ ধর্নায় বসেন না! কেউ সেখানে ভাষণে বলেন না, এসআইআর করতে এলে ঘর থেকে হাতিয়ার বার করে হামলা করুন।’’ তার পরেই শাহ মমতাকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘এগুলি কী ভাষণ? রাজ্যে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী গৃহিনীদের এ সব বলবেন? এসআইআরের প্রক্রিয়ায় কমিশন আমাদের কথায় চললে কেরল, তামিলনাড়ু থেকে কেন অভিযোগ এল না? কেরলে বাম সরকার, তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় ডিএমকে। কেন কেবল একটা জায়গা থেকে আসে অভিযোগ?’’ শাহের কথায়, ‘‘দোষ এসআইআরের নয়। ওই জায়গাতে (পশ্চিমবঙ্গ) যাঁরা ক্ষমতায়, তাঁদের দোষ। তাঁরা বুঝে গিয়েছেন, এ বার জনতা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাঁদের তাড়াবে। তাড়ানোর পরে সাংবাদিক বৈঠকের প্রস্তুতি করছেন। সেখানে কী কী বলবেন, তা এখন থেকে স্থির করে রাখছেন।’’

শাহ এখানেই থামেননি। এসআইআর নিয়ে মমতাকে আরও কটাক্ষ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘এসআইআর করে অনেক কাজ হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারী, যাঁরা ভুল নথি দেখিয়ে নাগরিক হয়েছেন, তাঁদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। যে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিক করা হয়েছে, সেখানেই তো বেশি ভোট কাটবে। এটায় ম্যাজিক কী?’’ শাহ দাবি করে বলেন, ‘‘বাংলায় খোলাখুলি অনুপ্রবেশ হয়েছে। বাংলা গোটা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গোটা রাজ্যের বাসিন্দারা ভীত। ডেমোগ্রাফি বদলাচ্ছে। বাংলাকে কোথায় নিয়ে যাবে।’’ তার পরেই শাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘এই মঞ্চ থেকে মমতাজিকে বলছি, যত কান্নাকাটি করার করে নিন। আমরা প্রত্যেকটি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করে ভোটার তালিকা থেকে বার তো করবই, দেশ থেকেও বার করব।’’

মমতা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সরকারের নির্দেশে চলে কমিশন। রাজ্যে বিপুল বাহিনী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সেই নিয়েও মুখ খুলেছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘আগে পশ্চিমবঙ্গে ৬ দফায় হত ভোট। এক দফা ভোট হলে, সেই কেন্দ্রগুলিতে মোতায়েন বাহিনী তৃতীয় দফার জায়গায় যেত। জওয়ান কম লাগত। এখন দুই দফার ভোট। তাই বাহিনী বেশি লাগবে। এটা নতুন কথা নয়।’’ তার পরেই শাহ বলেন, ‘‘এ সব নিয়ে রোজ কাঁদছেন (মমতা)। কোনও সহানুভূতির ভোট পাবেন না।’’ মমতা কেন সহানুভূতি পাবেন না এ বার? এই প্রশ্নের উত্তরে শাহ কটাক্ষ করে প্রথমে বলেন, ‘‘এ বার এখনও পা ভাঙেনি।’’ প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পা ভেঙে গিয়েছিল মমতার। পায়ে প্লাস্টার জড়িয়ে হুইলচেয়ারে ভোটপ্রচারে ঘুরেছিলেন তিনি। সেই নিয়ে কটাক্ষ করেন শাহ। তার পরে বলেন, ‘‘আগের বার ভোটের সময়ে অতিমারি ছিল। শেষ তিন দফা ভোটের আগে আমরা আর প্রচারই করিনি। কারণ বড় জনসভায় বড় জমায়েত থেকে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা ছিল। তৃণমূল সে সব মানেনি। তারা প্রচার চালিয়ে গিয়েছিল।’’ তাঁর দাবি, এ বার পশ্চিমবঙ্গে নিশ্চিত ভাবে পরিবর্তন আসবে।

আইপ্যাক-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছিলেন মমতা। কারণ তাঁর অধীনেই রয়েছে ইডি, সিবিআই। সেই ইডি হানা দিয়েছিল আইপ্যাককর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে। এই নিয়ে শাহ শুক্রবার বলেন, ‘‘আইপ্যাকে যে মামলা হয়েছে, তা পুরনো। হাজিরা দিলে বিষয়টি মিটে যেত।’’ তার পরেই নাম না করে তৃণমূলনেত্রীকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যাঁর ঘর থেকে ২৭ কোটি টাকা মিলেছে, সে নির্দোষ, যে ২৬ হাজার চাকরি খেয়েছে, সে-ও নির্দোষ, যার কয়লা চুরিতে কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে গিয়েছে, তারা সকলে নির্দোষ!’’ তার পরেই শাহ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘এরা না হয় ওর কার্যকর্তা! কিন্তু আইপ্যাকের জন্য এত কেন? আইপ্যাকে তল্লাশিতে সবচেয়ে খুশি তৃণমূলকর্মীরা। আমাদের জায়গা ওরা নিয়েছে (কর্মীরা ভাবেন)।’’ এর পরে মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপ নিয়েও কটাক্ষ করেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘কখনও দেখেছেন তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী সেখানে চলে যাবেন? কাজ করতে দেবেন না? এমন কী ছিল কম্পিউটারে যে, মুখ্যমন্ত্রী মর্যাদা ছেড়ে সেখানে চলে গেলেন? আমাদের কাজ করতে দেয়নি।’’

শাহ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী পদক্ষেপ করা হবে, তার রূপরেখা তৈরি রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপির সরকার সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) এলে যত সংস্থা চলে গিয়েছে, সেগুলি ফিরবে। শুরুতে কিছু পদক্ষেপ করতে হবে। সপ্তম বেতন কমিশন এসেছে সারা দেশে। অষ্টম বেতন কমিশন আসছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সুবিধা পাচ্ছে না। সাত বছর ধরে কোর্ট চাকরি রদ করেছে। বেচারাদের বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। ওঁদের কী দোষ? সব ভাইপোর উপরে ছেড়েছে। লুট চলেছে। আমরা ক্ষমতায় এলে নিয়োগ পরীক্ষায় বয়সের সীমা বাড়াব। মমতার জন্য যাঁদের পরীক্ষায় বসার বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তারা সুযোগ পাবেন।’’

শুক্রবার রাতেই কলকাতায় চলে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। শনিবার নিউ টাউনের হোটেল থেকে বিজেপির ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করবেন শাহ। সেখানে মমতার সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে চলেছে বিজেপি। স্থানীয় সমস্যা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ‘চার্জশিট’ আগেই প্রকাশ করা হয়েছে। এ বার গোটা রাজ্যের নিরিখে অভিযোগের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সূত্রের খবর, তিনটি মেয়াদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যের ‘অবনতি’র ১৪টি মূল ক্ষেত্র তুলে ধরা হচ্ছে বিজেপির ‘চার্জশিট’-এ। শুধু মমতা নয়, বিজেপির অভিযোগপত্রে একই সঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। শনিবার সেই ‘অভিযোগনামা’ প্রকাশ করে রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে আরও গতি এনে দেবেন শাহ— এমনটাই মনে করছে বিজেপি।

Amit Shah Mamata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy