শুক্রবার রাতেই কলকাতায় চলে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার নিউ টাউনের হোটেল থেকে বিজেপি-র ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করবেন তিনি। তার পর দুপুরেই আবার ফিরে যাবেন। ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করার জন্যই তাঁর এই ঝটিতি সফর।
বিজেপি সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দিল্লির সর্দার পটেল মার্গের তাজ প্যালেস থেকে রওনা দেবেন শাহ। জেনারেল অ্যাভিয়েশন টার্মিনাল ৪ থেকে তাঁর বিমান ছাড়বে রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে। কলকাতা বিমানবন্দরে তা পৌঁছোবে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে। সেখান থেকে সোজা নিউ টাউনে চলে যাবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাতে সেখানেই থাকবেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যেতে পারেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ দলের শীর্ষনেতারা।
আরও পড়ুন:
শনিবার বেলা ১২টা থেকে শাহের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। নিউ টাউনের ওই হোটেলেই একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। তা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। ১টা ৫ মিনিটে তিনি হোটেল ছাড়বেন। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তাঁর বিমান দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবে বেলা ১টা ২০ মিনিটে। শাহ ‘জ়েড প্লাস’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। কলকাতায় ঝটিকা সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে।
বিজেপি এখনও সব কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ১৯টি কেন্দ্র বাকি আছে। তবে সর্বত্রই পুরোদমে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার রামনবমীর উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে পদ্মশিবির প্রচারের কৌশল নিয়েছে। এখনও তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ্যে আসেনি। বিজেপি সূত্রে খবর, আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হবে। তার পর আসবে ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’। অর্থাৎ, আগে ‘রোগগুলি’ চিহ্নিত করে তার পর তা ‘নিরাময়ে’র উপায় বলে দেবে দল। শাহের সফরও সেই উদ্দেশ্যেই আয়োজিত।
‘চার্জশিট’-এ মমতার সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ প্রকাশ্যে আনতে চলেছে বিজেপি। স্থানীয় সমস্যা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ‘চার্জশিট’ আগেই প্রকাশ করা হয়েছে। এ বার গোটা রাজ্যের নিরিখে অভিযোগের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সূত্রের খবর, তিনটি মেয়াদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোট ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যের ‘অবনতি’র ১৪টি মূল ক্ষেত্র তুলে ধরা হচ্ছে বিজেপির ‘চার্জশিট’-এ। শুধু মমতা নয়, বিজেপির অভিযোগপত্রে একই সঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। শনিবার সেই ‘অভিযোগনামা’ প্রকাশ করে রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে আরও গতি এনে দেবেন শাহ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত