পরিকল্পনা বদলে ফেলল বিজেপি। নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজ্যের ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করবে তারা। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ২৮ মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করবেন। তাতে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ থাকবে। তার কিছু দিন পর বিজেপি প্রকাশ্যে আনবে তাদের ইস্তাহার, যাকে ‘সঙ্কল্পপত্র’ও বলা হয়। এ ভাবে আগে অন্যায়কে চিহ্নিত করে তার পর তা থেকে পরিত্রাণের উপায় বলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে পদ্ম শিবির।
তৃণমূল ইতিমধ্যে তাদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে দিয়েছে। জানা গিয়েছিল, ২৮ মার্চ বিজেপি সঙ্কল্পপত্র প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু সূত্রের দাবি, আগে অভিযোগের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। ইতিমধ্যে দলের তরফে স্থানীয় সমস্যা, অভাব-অভিযোগ তুলে ধরে বিধানসভাভিত্তিক ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হয়েছে। রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে ২৮ মার্চের ‘চার্জশিট’-এ। রাজ্যে দু’দিনের সফরে এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। পরিবর্তনযাত্রা, ব্রিগে়ড সমাবেশের মতো কর্মসূচির পর পশ্চিমবঙ্গে দলের সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী, এই দু’দিনে তিনি তা বিশদে পর্যালোচনা করেছেন। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার ভিত্তিতে ২৮ তারিখের ‘চার্জশিট’ তৈরি করা হবে। তার পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইস্তাহার প্রকাশ করতে পারে দল।
আরও পড়ুন:
বিজেপি সূত্রে খবর, ২৬ এবং ২৭ মার্চ রাজ্য জুড়়ে রামনবমী পালনে নামবেন নেতা-কর্মীরা। তার মধ্যে দিয়েই জনসংযোগ আরও জোরদার করার ভাবনা রয়েছে। দলীয় সূত্রে দাবি, রামনবমীর মিছিলে বহু মানুষ রাস্তায় নামতে পারেন। তার ঠিক পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ একত্রিত করে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন শাহ। তাতে গত ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের দুর্নীতি এবং অরাজকতার নজির তুলে ধরা হবে। দাবি, কয়লা, বালি, পাথরের মতো জাতীয় সম্পদের লুট রোধ করাও বিজেপির লক্ষ্য। তা-ও থাকবে শ্বেতপত্রে। ইস্তাহারে থাকতে পারে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি, সিঙ্গুরকে শিল্প ‘হাব’-এ পরিণত করা, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সড়ক পথে যোগাযোগ সুগম করার ঢালাও প্রতিশ্রুতি।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ এবং বেতন কমিশন সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিও বিজেপির ‘সঙ্কল্পপত্রে’ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রাখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। গত ২ মার্চ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত ঘোষনাটি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু হয়ে যাবে।’’ সেই প্রতিশ্রুতিই বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে বিশদে উল্লিখিত থাকছে। তার পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কেও বিজেপির অবস্থান ইস্তাহারে স্পষ্ট করা থাকছে বলে খবর। বিজেপি ক্ষমতায় এলে একশো শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ারর প্রতিশ্রুতি সেখানে দেখা যাবে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। বিজেপি বুধবার তৃতীয় দফায় আরও ১৯টি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। আরও ১৯টি কেন্দ্রে প্রার্থী দেওয়া বাকি। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-কে। রাজ্যের অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছেন প্রার্থীরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত