নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরে দ্বিতীয় রবিবারেই গঙ্গার দু’পারের বিধানসভায় শুরু তারকা প্রচার। বিরোধী শিবির থেকে প্রশ্ন উঠছে, প্রচারের শুরুতেই তড়িঘড়ি সাংসদ-অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব)-কে নিয়ে আসার নেপথ্যে কি স্থানীয় স্তরের ‘ক্ষতে’ প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা শাসকদলের? যদিও কামারহাটি ও বালি, উভয় বিধানসভা কেন্দ্রের নেতৃত্বের তরফেই দাবি, ‘‘উনি দলীয় সাংসদ। তাই তাঁকে দল তারকা প্রচারক হিসাবে পাঠিয়েছে।’’
এ দিন দুপুরে দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক থেকে শুরু করে আড়িয়াদহ গঙ্গার ঘাট পর্যন্ত ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে রোড-শো করেন দেব। সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটিতে তৃণমূল হেরেছিল। আর লোকসভা ভোটের পরে জয়ন্ত সিংহ ওরফে ‘জায়ান্ট’-কাণ্ডের জন্য আড়িয়াদহ এলাকা শিরোনামে উঠে এসেছিল।
সেই সময়ে স্থানীয় স্তর থেকেই অভিযোগ উঠেছিল, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃত্বের হাত মাথায় থাকাতেই এলাকার ত্রাস হয়ে উঠেছিল জয়ন্ত। যা মোটেই ভাল চোখে নেননি এলাকাবাসীর বড় অংশ। প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে সকলেরই ক্ষোভ রয়েছে ওই বিষয়ে।
কামারহাটির সিপিএম প্রার্থী মানস মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সমর্থন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। তাই খড়কুটো আগলে বাঁচার চেষ্টা। শিল্পীকে দেখতে লোক ভিড় করবেই, কিন্তু তাতে ক্ষত ঢাকবে না।’’ তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র অবশ্য বলছেন, ‘‘মানসকে নিয়ে কিছু বলতে চাই না। দল সাংসদ-অভিনেতাকে প্রচারে পাঠিয়েছে। সেখানে অন্য কিছু নেই। বাকি সব অপপ্রচার।’’
অন্য দিকে, এ দিন বেলুড় লালবাবা কলেজ থেকে বালি নিমতলা পর্যন্ত ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১০ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা দিয়ে রোড-শো করেন দেব। দীর্ঘ দিন বালিতে নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকায় পুরসভার ব্যর্থতার ‘ক্ষত’ ঢাকতে কার্যত কালঘাম ছুটছে তৃণমূল প্রার্থীর। বালিতে সব থেকে বড় সমস্যা জঞ্জাল অপসারণ। গলি থেকে রাজপথ, সর্বত্র অস্থায়ী ভ্যাট তৈরি হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে তিতিবিরক্ত সাধারণ মানুষ। নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে শুনতে হচ্ছে জঞ্জাল জমে থাকার অভিযোগ। তা সাফাইয়ের ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে খোদ তৃণমূল প্রার্থীকেই।
বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিংহ বলেন, ‘‘প্রশাসনের পদে না থেকে উনি কী করে পুরসভাকে দিয়ে জঞ্জাল সাফাই করাচ্ছেন? জঞ্জাল-নিকাশি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ এ সব চমকে মিটবে না।’’ পাল্টা তৃণমূলপ্রার্থী কৈলাস মিশ্র বলেন, ‘‘বালির মানুষের ভালর জন্য যে কেউ কাজ বা ব্যবস্থা করতে পারেন। আমার দেওয়া কথা মতো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অধিকাংশ জায়গা থেকে জঞ্জাল সাফ হয়ে গিয়েছে। তাতেই মানুষের ক্ষোভ চলে গিয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কিছু যুক্ত করে রাজনীতি না করাই ভাল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)