পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ আমলাদের বদলি প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এ বার রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করল তৃণমূল। রাজ্যে ভোট ঘোষণার রাতেই মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। গভীর রাতে কেন এ ভাবে বদলি করে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।
রবিবার ভোট ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীর বদলির সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকে। রাজ্যে শেষ কবে এ ভাবে মুখ্যসচিবকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, তা মনে করতে পারছেন না কেউই। এ ভাবে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের সরিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করে তৃণমূল।
সংসদের উচ্চকক্ষে ‘জ়িরো আওয়ার’-এর ঠিক আগেই শীর্ষ আমলাদের অপসারণের বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। মধ্যরাতে কমিশনের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান তিনি। ডেরেক বলেন, “গভীর রাতে কমিশন মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এটি করার সমস্ত ক্ষমতা তাদের রয়েছে।” রাজ্যসভায় একটি সাদা জামা পরে গিয়েছিলেন ডেরেক। নিজের পোশাকের কথা তুলে সাংসদ বলেন, “ওরা (কমিশন) বলতেই পারে আমি সাদা জামা পরে নেই, নীল জামা পরে আছি। কিন্তু এই প্রতিবাদে আমরা, তৃণমূল সাংসদেরা আজকের জন্য অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করছি।”
ডেরেকরা যখন রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করেন, প্রায় একই সময়ে রাজ্যে আরও বেশ কিছু বদলি হয়ে গিয়েছে। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকে। রাজ্যের পুলিশপ্রধান পীযূষ পাণ্ডেকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বদল করা হয় কলকাতার পুলিশ কমিশনারও। পাশাপাশি পুলিশে আরও বেশ কিছু বদলির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় কমিশন।
আরও পড়ুন:
নন্দিনীকে সরিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে নিয়ে এসেছে কমিশন। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। ডিজিপি পদ থেকে পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে ওই পদে নিয়ে আসা হয়েছে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে। সুপ্রতিম সরকারের জায়গায় কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে অজয় নন্দকে।
রবিবার বিকেলেই দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা করেন। এ বার রাজ্যে দু’দফায় ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। ভোটঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে এবং পুলিশের শীর্ষ স্তরে একের পর এক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।