লুঙ্গি-বিতর্কে আসরে তৃণমূল, দুই ভোটারের বাড়ি লুঙ্গি-মিষ্টি

তৃণমূলের তরফে স্থানীয় নেতা প্রসেনজয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুই ভোটারের বাড়িতে লুঙ্গি, মিষ্টি পৌঁছে পাশে থাকার বার্তা দেন। কুঁচলিয়া গ্রামের দেছের আলি মণ্ডল এবং নকফুল গ্রামের গণেশ মজুমদার— এই দুই ভোটার জওয়ানদের বাধায় লুঙ্গি পরে ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৮:০০
(বাঁ দিকে) দেছের আলি মণ্ডল এবং গণেশ মজুমদার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) দেছের আলি মণ্ডল এবং গণেশ মজুমদার (ডান দিকে)। — নিজস্ব চিত্র।

ভোটদানের অলিখিত ‘পোশাক-বিধি’ নিয়ে বিতর্ক মিটল না।

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার এক ভোটকেন্দ্রে কয়েকজন ভোটার লুঙ্গি পরে আসায় তাঁদের ভোট দিতে বাধা দেন কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা— এমন অভিযোগ ওঠে বুধবার, দ্বিতীয় দফার ভোটে। কোনও কোনও ভোটার পোশাক পরিবর্তন করে ভোট দিতে বাধ্য হন বলে দাবি। তাতে ক্ষোভ ছড়ায়। পরে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বদলায়, ভোটারেরা যে যার পোশাকেইভোট দেন।

জওয়ানেরা কেন এমন আচরণ করলেন, প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের তরফে তার স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বৃহস্পতিবারেও। এ দিন তৃণমূলের তরফে স্থানীয় নেতা প্রসেনজয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুই ভোটারের বাড়িতে লুঙ্গি, মিষ্টি পৌঁছে পাশে থাকার বার্তা দেন। কুঁচলিয়া গ্রামের দেছের আলি মণ্ডল এবং নকফুল গ্রামের গণেশ মজুমদার— এই দুই ভোটার জওয়ানদের বাধায় লুঙ্গি পরে ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি। নাতির প্যান্ট পরে ফের বুথে যান দেছের। গণেশ পরে পাজামা পরে বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। গাইঘাটার তৃণমূল প্রার্থী নরোত্তম বিশ্বাস বলেন, “কে, কী পরবেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। ভোটের মতো গণতান্ত্রিক অধিকারের ক্ষেত্রেও যদি পোশাক নিয়ে বাধা দেওয়া হয়, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

বৃদ্ধ গণেশ মজুমদার এ দিন বলেন, “গ্রামে থাকি, লুঙ্গি পরতেই অভ্যস্ত। এই পোশাকেই ভোট দিয়েছি এত দিন। এ বার বুথে গিয়ে অবাঙালি জওয়ানদের মুখে শুনলাম, ‘লুঙ্গি নেহি চলেগা’। বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে পাজামা পরে ফের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি।” তাঁর পরিবারের এক সদস্যের কথায়, “যদি নিয়ম থাকে, মানতে হবে। কিন্তু এমন নিয়ম আগে শোনা যায়নি।”

দেছের আলির দাবি, বুথের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা লাঠি উঁচিয়ে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন। জানিয়ে দেন, লুঙ্গি পরে ভোট দেওয়া যাবে না। দেছেরের কথায়, “বয়স আশি পেরিয়েছে। সেই কবে যুবক বয়সে প্যান্ট-শার্ট পরেছি। তার পর থেকে লুঙ্গিই পরি। কিন্তু ওই পোশাকে ভোট দিতে না পেরে নাতির প্যান্ট পরে আবার ভোট দিতে যাই।” স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাসেম মণ্ডল বলেন, “আমাদের এখানে সব সম্প্রদায়ের বয়স্ক মানুষই সাধারণত লুঙ্গি পরেন। ওই পোশাকে ভোট দেওয়া যাবে না, এমন কথা কখনও শুনিনি!”

এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ঠাকুর দাবি করেন, “ভোট পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর। তাঁদের সিদ্ধান্ত তাঁরাই ব্যাখ্যা করতে পারবেন।” জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘কোনও পোশাক বিধি নেই। একটা ভুল বোঝাবুঝিহয়েছিল হয়তো।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Election Commission

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy