E-Paper

তৃণমূলের তোপ কমিশনকে, ‘ভোটব্যাঙ্ক’ তির বিজেপির

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ওই ফর্ম-৬ জমা নিয়ে অভিযোগ তুলে তৃণমূল দাবি করেছিল, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যে ভোটার আনতে চাইছে বিজেপি। কমিশন সাহায্য করছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক সঙ্গে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় নাম রয়েছে, এ বার এমন ভোটার নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ‘কাঠগড়ায়’ তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক নাম দেখিয়ে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, ‘জালিয়াতি’র সব সীমা পেরিয়ে গিয়েছে কমিশন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য কমিশনের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ‘‘চার বালতি জল তুলে নিলে সমুদ্র শুকিয়ে যায় না!’’

ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ফর্ম-৬ জমা নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যে নতুন অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ওই ফর্ম-৬ জমা নিয়ে অভিযোগ তুলে তৃণমূল দাবি করেছিল, বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যে ভোটার আনতে চাইছে বিজেপি। কমিশন সাহায্য করছে। পাঁচ ভোটার সম্পর্কে তথ্য দিয়ে এ দিন ব্রাত্য ও ডেরেক বলেছেন, এঁরা সকলেই বিহারের ভোটার। আবার এ রাজ্যেও তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। মূলত দু’জায়গায় নাম থাকার এই অভিযোগকে কারচুপি বলে উল্লেখ করেছেন তাঁরা। ব্রাত্য বলেন, ‘‘মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার মতো এ রাজ্যেও ট্রেন ভরে গাদাগাদা ভোটার নিয়ে আসতে চায় বিজেপি। তাই বিহারের ভোটারের নাম এ রাজ্যে রেখেছে কমিশন।’’

তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পর্কে কমিশনের বক্তব্য, বিহার নিয়ে অভিযোগ মুখে করলে কী করে চলবে, লিখিত অভিযোগ করলে তা অনুসন্ধান এবং পদক্ষেপ হতে পারে। একটি রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন এক ভোট-কুশলীর বিহার এবং কলকাতায় ভোটার তালিকায় নাম ছিল। লিখিত অভিযোগ হওয়ার পরে পদক্ষেপ হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ খণ্ডন করে বিজেপিও পাল্টা আঙুল তুলেছে। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘‘ওরা (তৃণমূল) যদি হাতেনাতে ধরে থাকেন, সামনে নিয়ে আসুন। তা না-করে বুলি দিচ্ছেন কেন? নির্বাচন কমিশনই বা এ সব সহ্য করছে কেন? ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিতে বাধা দেওয়া হবে কেন?’’ তাঁর কটাক্ষ, ‘‘উত্তরপ্রদেশে বুয়া-ভাতিজার সরকার চলে গিয়েছে। এই রাজ্যেও ৪ মে পিসি-ভাইপোর সরকার চলে যাবে। আতঙ্ক, হতাশায় ওঁরা ভুল বকছেন। এ নিয়ে কিছু হলে তৃণমূল দায়ী থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না-রাখতে পারলে দায় কমিশনেরও থাকবে।’’

উত্তরবঙ্গে এ দিন তিনটি জনসভায় ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশন ও বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মোদীজি মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে ভালোবাসেন। এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই তার জবাব দিতে হবে। দিল্লির জমিদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত করতে হবে।’’

এই অভিযোগ সামনে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উপর চাপ বাড়াতে অপসারণ প্রস্তাবের প্রসঙ্গ টেনেছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের নেতা ডেরেক। তিনি বলেন, ‘‘সংসদের অধিবেশন শেষ হতে চলল। অথচ ২০০ সাংসদের সই সহ আমরা তাঁকে সরানোর যে প্রস্তাব এনেছি, তা নিয়ে আলোচনা হল না!’’ এই সূত্রেই কমিশন ও বিজেপির আঁতাঁতের অভিযোগ করে ব্রাত্য বলেন, ‘‘কমিশনের এই ভূমিকা চলতে থাকলে দেশে গণতন্ত্র বলে কিছু থাকবে না। এই কারচুপি গোটা দেশকে জানাব। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাব!’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy