E-Paper

তৃণমূলের তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ প্রার্থী, আদালতে সিপিএম

কলকাতা হাই কোর্টের বৈঠকের পরে সিইও জানিয়েছেন, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২১ লক্ষ নামের বিষয়ে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ট্রাইবুনাল গঠনের কাজও শেষ পর্যায়ে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৭

—প্রতীকী চিত্র।

বিজেপির আউশগ্রামের কলিতা মাজির পরে এ বার তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েক জন প্রার্থীও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রয়েছেন। এই আবহে রাজ্যের ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে বিজেপি ছাড়া সব দল প্রশ্ন তুলেছে। বৈঠকে ছিলেন কমিশন নিযুক্ত বিধানসভা ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও। বৈঠকে বিজেপি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সক্রিয় রাখার দাবি জানিয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্টের বৈঠকের পরে সিইও অবশ্য জানিয়েছেন, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২১ লক্ষ নামের বিষয়ে নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ট্রাইবুনাল গঠনের কাজও শেষ পর্যায়ে। হাই কোর্ট ট্রাইবুনালের সদস্যদের নাম জানালে রাজ্য সরকার সেই সংক্রান্ত বন্দোবস্ত করবে এবং তার পরে তাঁরা কাজ শুরু করবেন। বিবেচনাধীনদের মধ্যে যাঁরা ‘যোগ্য’, তাঁদের নাম অতিরিক্ত তালিকা হিসাবে শুক্র বা শনিবার প্রথম দফায় প্রকাশিত হতে পারে বলে কমিশন সূত্রের খবর।

এরই মধ্যে রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, বিদায়ী চার বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল, জাকির হোসেন, বাইরন বিশ্বাস, স্বাতী খন্দকার-সহ তৃণমূলের এ বারের প্রার্থী তালিকায় থাকা বেশ কয়েক জন রয়েছেন বিবেচনাধীন তালিকায়। কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বিবেচনাধীন ভোটারকে বাদ রেখে কী ভাবে ভোট হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের প্রতিনিধি, রাজ্যের দুই মন্ত্রী শশী পাঁজা, পুলক রায়। শশীর আরও বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় বাহিনী কী ভাবে বুথে দায়িত্ব পালন করবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। নথি যাচাইয়ের মতো কাজে বাহিনীকে ব্যবহার করা চলবে না।” একই বিষয়কে সামনে রেখে মঙ্গলবার কমিশনে গিয়েছিলেন তৃণমূলের তিন প্রতিনিধি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র, পার্থ ভৌমিকেরা।

কমিশনের আশ্বাসে ভরসা না-রেখে আদালতের পথে গিয়েছে সিপিএম। তাদের বক্তব্য, নির্বাচিত হওয়া ও প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করা সাংবিধানিক অধিকার। ভোটারদের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে কমিশন সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে, এই অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা ও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ইকবাল হক। দলের প্রস্তাবিত প্রার্থী তালিকায় থাকা কয়েক জন ভোটার হিসেবে ‘বিবেচনাধীন’ হওয়ায় তাঁদের নাম আপাতত ঘোষণা করেনি সিপিএম।

কমিশনের বৈঠকে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির প্রতিনিধি তাপস রায়, সঞ্জয় সিংহেরা। পুলিশের প্রভাবমুক্ত করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সক্রিয় রাখা এবং সিইও দফতর থেকে বাহিনীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছে বিজেপি। পাশাপাশি, সন্ত্রাস-মুক্ত নির্বাচন, পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তাপসেরা। ভোটার তালিকায় থাকা কারও নাম নিয়ে আপত্তি জানানোর জন্য যে ৭ নম্বর ফর্ম, রাজ্য জুড়ে সেগুলির একাংশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ করেছিল বিজেপি। সেই ফর্মগুলি এবং যে সব ফর্ম জমা নেওয়ার পরেও ‘আপলোড’ করা হয়নি, সেগুলির বিষয়ে নিষ্পত্তির দাবিও তুলেছে বিজেপি।

তবে শুধুমাত্র ৭ নম্বর ফর্মের ভিত্তিতে, উপযুক্ত যাচাই না-করে নাম বাদ দেওয়া যাবে না বলে দাবি তুলেছে সিপিএম। কমিশনের বৈঠকে দলের প্রতিনিধি, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য কল্লোল মজুমদার, পলাশ দাসদের দাবি, যে সব ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কত জন ভোটার তালিকায় থাকবেন, তা নিয়ে কমিশন নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। নাম বাদ গেলে, তার কারণ উল্লেখ থাকবে কি না, তা-ও অস্পষ্ট।

প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, প্রশান্ত দত্তেরা কমিশনে গিয়েছিলেন। আশুতোষের বক্তব্য, “বিবেচনাধীনেরা প্রার্থী হতে বা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি, এখনও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা বৈঠক ডাকা হয়নি কেন?”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

CPIM BJP TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy