রাজ্যে এসে বিজেপি-র ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের দাবিকে কটাক্ষ করলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-র প্রধান তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। বুধবার পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে মোট তিনটি সভা করেন তিনি। প্রতিটিতেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানান হেমন্ত।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরেই ঝাড়খণ্ড থেকে রঘুবর দাসের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে উৎখাত করেছেন হেমন্ত। বুধবার সেই হেমন্তই পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে নেমে তিনি বললেন, ‘‘পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং মেদিনীপুর ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার কাছে নতুন জায়গা নয়। আমরা নানা সময়ে এখানে নির্বাচনে লড়েছি। কিন্তু এ বার আমরা স্থির করেছি, আদিবাসী, দলিতদের বাঁচাতে আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করব।’’ এর পরই ঝাড়খণ্ডে বিজেপি-র বিরুদ্ধে জয়ের স্মৃতি টেনে এনে হেমন্তের সংযোজন, ‘‘বিজেপি সারা দেশে সবচেয়ে বড় দল বলে নিজেদের দাবি করে। কিন্তু সেই দলকে হারিয়েছে আপনাদের ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা। এ রাজ্যে দ্বিতীয়বার আমরা এই কাজটা করব।’’ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র উত্থান নিয়ে তাঁর মত, ‘‘ঝাড়খণ্ডেও, লোকসভার ১৪টি আসনের মধ্যে ১৩টি দখল করেছিল বিজেপি। কিন্তু বিধানসভায় আমরা তাদের ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছি।’’
সম্প্রতি এ রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ইস্তাহারে বিজেপি যে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হেমন্ত। তাঁর কথায়, ‘‘কোথায় গেল ১৫ লক্ষ টাকা? কোথায় গেল বছরে দু’কোটি চাকরি? কোথায় গেল কালো টাকা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি?’’ সেইসঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার নিয়ে হেমন্তের খোঁচা, ‘‘এই ডাবল ইঞ্জিনের সরকার কাজের জন্য নয়। এই ডাবল ইঞ্জিন দেশকে লুঠের জন্য তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডেও সরকারি সম্পত্তি বিক্রি শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে।’’