বিজেপির রোড শো-কে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল হাওড়া। তৃণমূল, বিজেপির স্লোগান, পাল্টা স্লোগানে তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিযোগ, তৃণমূলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বিজেপিও পাল্টা হামলার অভিযোগ করেছে। দু’পক্ষের বচসায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। লাঠিচার্জ করে জমায়েত সরানোর চেষ্টা করে তারা।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে শেষ রবিবার। নির্বাচনী প্রচারের শেষলগ্নে উত্তর হাওড়ায় একটি মিছিলের আয়োজন করেছিল বিজেপি। দলীয় প্রার্থী উমেশ রাইয়ের হয়ে প্রচারে এসেছিলেন অভিনেতা তথা বিজেপি সাংসদ রবি কিশন। তাঁর রোড শো চলাকালীন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রোড শো লিলুয়ার বি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। তখন রোড শো থেকেও পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ওঠে। ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরে দু’পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
বিজেপির অভিযোগ, তাদের রোড শো আটকানোর চেষ্টা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, রোড থেকে তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। সময় যত গড়াতে থাকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। জমায়েত হটাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ বাহিনী। কেন্দ্রীয় বাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। লাঠিচার্জ করে জমায়েত সরানো হয়। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলেই দাবি পুলিশের। তবে এখনও এলাকা থমথমে।
ঘটনা প্রসঙ্গে উমেশ বলেন, ‘‘আমাদের রোড শো চলাকালীন বিজেপির পতাকা খুলে ফেলে দিয়েছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। সেই জায়গায় তৃণমূলের পতাকা লাগানো হয়। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি।’’ হাওড়া উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী গৌতম চৌধুরীর অভিযোগ, তাঁদের কর্মীরা ওই এলাকায় পতাকা লাগাচ্ছিলেন। সেই পতাকা ছিঁড়ে ফেলা হয়। জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া হয়। বহিরাগতদের নিয়ে এসে মিছিল করছিল বিজেপি। গৌতমের প্রশ্ন, নির্বাচনী বিধি মেনে ওই মিছিল হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তৃণমূল এবং বিজেপি, দু’পক্ষই অভিযোগ জানাবে বলে জানিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত