গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত দেশনেতা হিসাবে নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছাপিয়ে গেলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকেও। বুধবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদীর ১২ বছর সম্পূর্ণ হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে টানা প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে এর আগে কেউ থাকেননি। এই দিনটিকে উদ্যাপন করতেই নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি ও তার শরিক দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখান থেকে কংগ্রেসকে এক হাত নিয়েছেন মোদী। ২০১৪ সালের আগে দেশে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকারের খামতিগুলি তুলে ধরেছেন তিনি। সেই সঙ্গে এনডিএ সরকারের সাফল্যের খতিয়ানও দিয়েছেন।
কংগ্রেসের আমলে দেশে উন্নয়নের হার ছিল শ্লথ। অভিযোগ, সেই শ্লথ হারকে ‘হিন্দু উন্নয়ন হার’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল। ভুল বোঝানো হয়েছিল দেশবাসীকে। মোদী বলেন, ‘‘কংগ্রেস এই দেশকে অসহায়তা, চরম দারিদ্র্য এবং হীনমন্যতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। দেশবাসীকে বোঝানো হয়েছিল, ভারতে উন্নয়ন শ্লথ এবং সেটাই অনিবার্য। দ্রুত গতিতে উন্নয়ন এখানে সম্ভব নয়। অত্যন্ত চতুরতার সাহায্যে এই শ্লথ উন্নয়ন-হারকে ‘হিন্দু উন্নয়ন-হার’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল। দায়, ব্যর্থতা— সবটাই ছিল কংগ্রেসের। অথচ দেশের বিশাল হিন্দু জনগোষ্ঠীর উপর সেই দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাস্তবে এর নাম দেওয়া উচিত ছিল ‘কংগ্রেসি উন্নয়ন-হার’।’’ কংগ্রেসের আমলে দেশে সুশাসন, নীতি এবং সরকারের সদিচ্ছার প্রবল অভাব ছিল বলেও দাবি করেছেন মোদী।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘অটলজির (অটলবিহারী বাজপেয়ী) নেতৃত্বে এ দেশে এনডিএ সরকার প্রথম ক্ষমতায় এসেছিল। উন্নয়ন কাকে বলে, তখন আমরা দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ২০০৪ সালে এই দেশ আবার অস্থিতিশীলতার ঘূর্ণাবর্ত এবং কংগ্রেসের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।’’ কংগ্রেসের আমলে উন্নয়নের হারের সঙ্গে তাঁর সরকারের উন্নয়নের ফারাক বুঝিয়েছেন মোদী। জানিয়েছেন, অন্যেরা যা মুখে বলেছে, তাঁর সরকার তা বাস্তবে করে দেখিয়েছে। মোদীর কথায়, ‘‘১২ বছরে যদি এত সাফল্য পাওয়া যায়, এর আগের দশকগুলিতে সেগুলো হল না কেন? এটাই কংগ্রেস আমলের উন্নয়নের সঙ্গে এন়ডিএ আমলের উন্নয়নের ফারাক। প্রথমটা মানুষকে অপেক্ষা করাত। দ্বিতীয়টা কাজ করে দেখায়। কংগ্রেসের ষড়যন্ত্রের জাল থেকে দেশকে মুক্ত করাই গত ১২ বছরে এনডিএ-র অন্যতম বড় সাফল্য। এখন দেশের প্রত্যেক নাগরিক বিকশিত ভারতের স্বপ্ন দেখেন। এটা আর কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।’’
এনডিএ-র সাফল্যের খতিয়ান দিতে গিয়ে অপারেশন সিঁদুরের কথাও উল্লেখ করেছেন মোদী। তাঁর ভাষণে এসেছে জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রসঙ্গ। মোদী বলেছেন, ‘‘এর আগে সরকার ৩৭০ ধারা সম্পর্কে আলোচনা করতেও ভয় পেত। আমরা সেটা বাতিল করেছি এবং সারা দেশে এক সংবিধান কার্যকর করেছি। আগে বোমা, গুলি, বন্দুক, অবরোধ উত্তর-পূর্ব ভারতে অপরিহার্য ছিল। আমরা সেখানে শান্তি, স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছি। আগে ভারত শুধু সন্ত্রাসবাদী হামলার বলি হত। এখন আমরা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং এয়ার স্ট্রাইকের মাধ্যমে জবাব দিই। অপারেশন সিঁদুরের সময় সারা বিশ্ব ভারতের শক্তির পরিচয় পেয়েছে। আগে মনে করা হত, নকশালবাদ, মাওবাদ কখনও শেষ হবে না। আমরা সে সবের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। মহিলাদের সংরক্ষণ, তিন তালাকের বিরুদ্ধে আইন, সিএএ— আমরা করে দেখিয়েছি। জাতীয় স্বার্থে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পিছু হটেনি এনডিএ সরকার। আমরা তার জন্য গর্বিত।’’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সর্বোচ্চ সময় অতিক্রম করায় মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন। উনি দারুণ একজন প্রধানমন্ত্রী। মোদী শক্তিশালী, জ্ঞানী এবং স্বাস্থ্যবান পুরুষ। আগামী দিনে তিনি আরও অনেক সাফল্য পাবেন।”