সাত জেলায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ। তবে ভোটের কাজ করার কর্মী সঙ্কটে ভুগছে নির্বাচন কমিশন। সমস্যা মেটাতে এ বার প্রথম দফায় কাজ করা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হল। এমনই ১৭ হাজারের বেশি কর্মীকে দ্বিতীয় দফার ভোটে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে কমিশন। সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে।
কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিয়োগের কথা জানিয়েছে কমিশন। কোন জেলায় কত জন নিয়োগ করা হচ্ছে তা জানানো হয়েছে। ওই কর্মীরা প্রথম দফায় কোন জেলায় কাজ করেছেন, তার উল্লেখ রয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নির্দেশিকা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আবার দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে বলা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৭৬ জন কেন্দ্রীয় কর্মচারী, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ মোট চার ক্ষেত্রে ভোটকর্মীদের নিয়োগ করা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬২০ জন।
তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। ওই জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৮০ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে, যাঁরা প্রত্যেকেই প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও নদিয়ায় নিয়োগ করা হচ্ছে ১,৭৪৫ জনকে। তাঁদের মধ্যে তেহট্ট বিধানসভাতেই বেশি। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রে ২২১ জনকে নিয়োগ করতে চলেছে কমিশন। হাওড়ার অন্যত্র ৫০৩ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হাওড়ায় মোট ৭২৪ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতায় ১, ১০৯ জন, হুগলিতে ৭১২ জন এবং পূর্ব বর্ধমানে ৬৮৬ জন ভোটকর্মীকে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
আরও পড়ুন:
কমিশনের এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটকর্মী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তাঁর প্রশ্ন, কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগের কথা বলল কমিশন। ভোটকর্মী সঙ্কট মেটাতে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদেরও তো নিয়োগ করা যেত! রাজ্য সরকারের অনেক কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা এখনও ভোটের কোনও কাজ পাননি। তাঁদের নিয়োগ না-করে প্রথম দফার ভোটে কাজ করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আনা হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। স্বপনের কথায়, ‘‘এই ধরনের ঘটনা আমরা এর আগে দেখিনি।’’ তবে তিনিও সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত