Advertisement

নবান্ন অভিযান

দ্বিতীয় দফার ভোটে কর্মী সঙ্কট! প্রথম দফায় কাজ করা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগ করার নির্দেশ দিল কমিশন

কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৭৬ জন কেন্দ্রীয় কর্মচারী, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৪
Election Commission orders deployment of central government employees who worked in the first phase in the second phase of voting

দ্বিতীয় দফার ভোটের কাজে প্রথম দফায় কাজ করা কর্মীদের নিয়োগ করার পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সাত জেলায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ। তবে ভোটের কাজ করার কর্মী সঙ্কটে ভুগছে নির্বাচন কমিশন। সমস্যা মেটাতে এ বার প্রথম দফায় কাজ করা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হল। এমনই ১৭ হাজারের বেশি কর্মীকে দ্বিতীয় দফার ভোটে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেছে কমিশন। সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে।

কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিয়োগের কথা জানিয়েছে কমিশন। কোন জেলায় কত জন নিয়োগ করা হচ্ছে তা জানানো হয়েছে। ওই কর্মীরা প্রথম দফায় কোন জেলায় কাজ করেছেন, তার উল্লেখ রয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নির্দেশিকা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আবার দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে বলা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৭৬ জন কেন্দ্রীয় কর্মচারী, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ মোট চার ক্ষেত্রে ভোটকর্মীদের নিয়োগ করা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬২০ জন।

Advertisement

তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। ওই জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৮০ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে, যাঁরা প্রত্যেকেই প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও নদিয়ায় নিয়োগ করা হচ্ছে ১,৭৪৫ জনকে। তাঁদের মধ্যে তেহট্ট বিধানসভাতেই বেশি। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রে ২২১ জনকে নিয়োগ করতে চলেছে কমিশন। হাওড়ার অন্যত্র ৫০৩ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হাওড়ায় মোট ৭২৪ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতায় ১, ১০৯ জন, হুগলিতে ৭১২ জন এবং পূর্ব বর্ধমানে ৬৮৬ জন ভোটকর্মীকে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কমিশনের এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটকর্মী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তাঁর প্রশ্ন, কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগের কথা বলল কমিশন। ভোটকর্মী সঙ্কট মেটাতে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদেরও তো নিয়োগ করা যেত! রাজ্য সরকারের অনেক কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা এখনও ভোটের কোনও কাজ পাননি। তাঁদের নিয়োগ না-করে প্রথম দফার ভোটে কাজ করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আনা হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। স্বপনের কথায়, ‘‘এই ধরনের ঘটনা আমরা এর আগে দেখিনি।’’ তবে তিনিও সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।

সংক্ষেপে
  • রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
Election Commission Central Government Employees
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy