কলকাতা পুরসভায় কাউন্সিলরদের গ্রেফতারি চলছেই। এ বার পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দারকে ধরল পুলিশ। খুনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নারকেলডাঙা থানায় ২০২২ সালের ঘটনা নিয়ে দায়ের হওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বপনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। বুধবার ফুলবাগান এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার ১০ জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হল।
কলকাতা পুরসভার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর স্বপন। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতিতেও ছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২২ সালের ২ মে-র ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার নারকেলডাঙা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী এক মহিলা।
আরও পড়ুন:
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় স্বপনের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। তাতে খুনের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি, বেআইনি ভাবে আটকে রাখা এবং কোনও কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত করা, সম্পত্তি ধ্বংস, চুরি, ভয় দেখানোর ধারাও রয়েছে। অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোটপরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন স্বপন।তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় এলাকায় তাঁর দাপট ছিল। তাই সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করা যায়নি। বর্তমানে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত এবং দিকে দিকে কাউন্সিলরেরা গ্রেফতার হচ্ছেন। সেই কারণেই এখন তাঁর বিরুদ্ধে থানায় গিয়েছেন অভিযোগকারী।
গত কয়েক দিনে পর পর কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরেরা গ্রেফতার হয়েছেন। পাটুলিতে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় শনিবার রাতে। তার পর রবিবার সকালে জোড়াসাঁকোয় কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রয়েছে। নাবালিকাকে হেনস্থার মতো অভিযোগ রয়েছে জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া, তোলাবাজির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য এবং তাঁর স্বামীকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে।