Advertisement
E-Paper

‘বিরাট কিছু ঘটবে’! বালতিতে ডুবিয়ে খুদেকে মারার আগে খাতায় লেখে দুই ছাত্রী, কী ভাবে খুনের ছক কৃষ্ণনগরের স্কুলে

হস্টেল থেকে পালানোর পরিকল্পনা করছিল দুই ছাত্রী। তারা মনে করেছিল, হস্টেলের ভিতরে বড় কোনও কাণ্ড ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারলে হস্টেল বন্ধ হয়ে যাবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ১১:৪২
নদিয়ার স্কুলে খুদেকে বালতিতে ডুবিয়ে খুনের অভিযোগ ‘দিদি’দের বিরুদ্ধে।

নদিয়ার স্কুলে খুদেকে বালতিতে ডুবিয়ে খুনের অভিযোগ ‘দিদি’দের বিরুদ্ধে। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি স্কুলের হস্টেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে বালতির জলে ডুবিয়ে মারার অভিযোগে আটক করা হয়েছে দুই ছাত্রীকে। তারা ওই হস্টেলেরই নবম শ্রেণির ছাত্রী। খুদেকে খুনের কথা পুলিশের প্রাথমিক জেরায় তারা স্বীকারও করে নিয়েছে বলে খবর। তাদের ঘর থেকে যে খাতা এবং ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে, সেখানে খুনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হস্টেল থেকে পালানোর পরিকল্পনা করছিল দুই ছাত্রী। তারা মনে করেছিল, হস্টেলের ভিতরে বড় কোনও কাণ্ড ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারলে হস্টেল বন্ধ হয়ে যাবে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই ভাবনা থেকেই হস্টেলের সবচেয়ে খুদে আবাসিককে নিশানা করেছিল তারা। শনিবার ভোরে সাত বছরের ওই শিশুর দেহ উদ্ধার করা হয় শৌচাগার থেকে। তার মাথা জলভর্তি বালতিতে ডোবানো ছিল। হাতের শিরাও কাটা ছিল। দুই ছাত্রীর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কিছু খাতা এবং ডায়েরি পেয়েছেন তদন্তকারীরা। একটি ডায়েরিতে লেখা, ‘‘বিরাট কিছু ঘটতে চলেছে।’’ ওই ডায়েরিরই শেষ পাতায় লেখা হয়েছে, ‘‘বন্ধ হবে হস্টেল।’’ এখানেই শেষ নয়, একটি ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া ছেঁড়া পাতায় লেখা, ‘‘যা হচ্ছে সবাই অবাক হয়ে যাবে।’’ মনে করা হচ্ছে, এ সবই ছাত্রীকে খুনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত।

পুলিশ জানতে পেরেছে, হস্টেল থেকে বাড়ি গেলেই মোবাইলে ডুবে যেত অভিযুক্ত দুই ছাত্রী। সমাজমাধ্যমের নেশা ছিল তাদের। কিন্তু স্কুলের হস্টেলে সেই সুযোগ ছিল না। তাই হস্টেল সম্পর্কে তাদের অনীহা তৈরি হয়। হস্টেল বন্ধ করতে পারলেই সেই বন্দি জীবন থেকে মুক্তি মিলবে বলে তারা ভেবে নেয়। তাই খুনের পরিকল্পনা করে শিশুকে। পুলিশ সূত্রে খবর, পেন্সিল ছোলার ‘শার্পনার’ থেকে ব্লেড খুলে নিয়েছিল তারা। সেই ব্লেডই শিশুর হাত কাটার জন্য ব্যবহার করা হয়। বালতিতে শিশুর মাথা দীর্ঘ ক্ষণ ডুবিয়ে রাখার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয় তার। দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। আপাতত দুই ছাত্রীকেই হোমে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত শিশুর ফুসফুস এবং পেটে অনেক জল পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হস্টেলের অন্য এক ছাত্রী ওই শিশুকে নিয়ে শৌচাগারের দিকে দু’জনকে যেতে দেখেছিল। তা পুলিশকে সে জানায়। এ ছাড়া হস্টেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকেও তাদের শনাক্ত করা হয়। খুনের পর বার বার তারা স্নান করেছিল এবং পোশাক বদল করেছিল। শৌচাগার জল দিয়ে ধুয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টাও করা হয়েছিল। তবে এর নেপথ্যে অন্য কারও হাত আছে কি না, কেউ তাদের উস্কানি দিয়েছিলেন কি না, পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

Krishnanagar Nadia Murder Case Hostel West Bengal Police
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy