Advertisement
E-Paper

মাথা ধরে বালতির জলে ডুবিয়ে রাখার পর ব্লেড দিয়ে ৭ বছরের ছাত্রীর হাতের শিরা কেটে খুন! কৃষ্ণনগরে স্কুলে ‘দিদি’দের কাণ্ড

শনিবার ভোরে ৭ বছরের এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয় হস্টেলের শৌচাগার থেকে। পরিবারের দাবি, গ্রীষ্মের ছুটি শেষে শুক্রবারই প্রথম শ্রেণির পড়ুয়াকে হস্টেলে দিয়ে গিয়েছিলেন বাবা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ ১৭:০৯
Krishnagar Hostel Incident

স্কুলে ঢুকছেন পুলিশকর্মীরা। — নিজস্ব চিত্র।

হস্টেলে দুই ‘দিদি’র হাতে খুন হয়েছেন প্রথম শ্রেণির ছাত্রী! নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত একটি বালিকা বিদ্যালয়ের হস্টেলের শৌচাগার থেকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নবম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে আটক করল পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের কথা স্বীকারও করে নিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

শনিবার ভোরে ৭ বছরের এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হয় হস্টেলের শৌচাগার থেকে। পরিবারের দাবি, গ্রীষ্মের ছুটি শেষে শুক্রবারই প্রথম শ্রেণির পড়ুয়াকে হস্টেলে দিয়ে গিয়েছিলেন বাবা। মেয়েকে খুন করা হয়েছে অভিযোগ করেন তিনি। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্নান করতে গিয়েছিল সাত বছরের মেয়েটি। তার পিছন পিছন সেখানে ঢোকে নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী। তার পর মেয়েটির মাথা ধরে বালতির জলে চুবিয়ে দেওয়া হয়। প্রথমে শ্বাসরোধ করে মারার চেষ্টা করা হয়। পরে মেয়েটির মৃত্যু নিশ্চিত করতে ব্লেড দিয়ে নাবালিকার এক হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনা ঘটনোর পরে শৌচাগারের দরজা বন্ধ করে বালতিটিকে এক কোণে সরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যায় দুই অভিযুক্ত। পরে ওয়ার্ডেন খোঁজ করতে গিয়ে ওই শিশুকে নিথর অবস্থায় শৌচাগারে পড়ে থাকতে দেখেন।

হস্টেলের আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে ওই দুই ছাত্রীর কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাদের টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের একের প্রশ্নের মুখে মুখে দোষ স্বীকার করেছে দুই ছাত্রী। আপাতত তাদের হোমে পাঠানো হয়েছে।

কিন্তু কেন সাত বছরের মেয়েটিকে খুন করতে গেল ১৫-১৬ বছরের দুই কিশোরী? তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, নবম শ্রেণির দুই ছাত্রী ওই হস্টেলে থাকতে চাইছিল না। তাদের ধারণা হয়, হস্টেলের ভিতরে কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারলে কর্তৃপক্ষ হস্টেল বন্ধ করে দেবেন। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, ‘‘আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় দু’জনের বয়ানে অসঙ্গতি মেলে। টানা জেরায় খুনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একপ্রকার নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। হস্টেল বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য ছিল ওই দু’জনের। তবে তদন্তের এখনও অনেক বাকি। বেশ কিছু নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।’’

মৃত ছাত্রীর বাবা অনিমেষ কুমার সাহা জানান, সকালে তিনি স্কুলে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে দুই ছাত্রীকে আটক করার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন। তিনি বলেন, ‘‘দেড় বছর ধরে হস্টেলে থাকত মেয়ে। কখনও হস্টেল নিয়ে খারাপ কিছু বলতে শুনিনি ওকে। আমার মনে হয়, নেশা করে দুই ছাত্রী এই ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে শুধু ওরা নয়, আমার মনে হয়, এটা ষড়যন্ত্র করে খুন। বড় মাথা রয়েছে।’’

অন্য দিকে, স্কুল চত্বরে নিরাপত্তা এবং ফরেনসিক তদন্তের জন্য বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আতঙ্কে অভিভাবকদের অনেকে ছাত্রীদের বাড়ি নিয়ে চলে যাচ্ছেন।

Crime Hostel Krishnanagar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy