প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বাড়িতে গেল পুলিশ। মেসি-কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সোমবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়ার নোটিস দিতেই গিয়েছিল তারা। জানা গিয়েছে, বার বার বেল বাজালেও কেউ দরজা খোলেননি। তাই অরূপের বাড়ির দরজার বাইরে সেই নোটিস টাঙিয়ে দিল পুলিশ।
সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ অরূপকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তলব করা হয়েছে। এই নিয়ে দু’বার। গত বৃহস্পতিবারও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়ান। আইনজীবী মারফত চিঠি পাঠিয়ে ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। যদিও অরূপকে ১৪ দিন সময় দিতে নারাজ পুলিশ, তা বোঝা গিয়েছিল শনিবারই। রাতের দিকে তাঁকে দ্বিতীয় নোটিস পাঠানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আর রবিবার দেখা গেল সেই নোটিস অরূপের বাড়ির দরজায় গিয়ে সাঁটিয়ে দিয়ে এল পুলিশ। প্রথম নোটিসটিও একই সঙ্গে দরজায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যুবভারতীতে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে দিন কয়েক আগে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। অরূপ-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন শতদ্রু। অরূপদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় এফআইআর হয়। সেগুলি হল— অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫), তোলাবাজি ৩০৮(২), প্রতারণা ৩১৮(৪), অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২)। সেই এফআইআরের পরই যুবভারতী কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে তলব করেছিল পুলিশ।
আরও পড়ুন:
যুবভারতীর ঘটনায় সমালোচিত হয়েছিল তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপের ভূমিকা। অভিযোগ উঠেছিল, যুবভারতীতে আর্জেন্টিনা তারকা লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে ভিড় করেছিলেন বহু ব্যক্তি। অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশৃঙ্খলার জেরে বহু দর্শক টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি। বিতর্কের মধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেছিল অরূপ। আগামী ৯ জুন অরূপের জামিন-মামলার শুনানি রয়েছে।