বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিতে রবিবারই দিল্লি উড়ে যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তা সত্ত্বেও রবিবার বিকেলে কলকাতার দলীয় সব কাউন্সিলরকে বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। কাউন্সিলরদের নিয়ে আলোচনায় বসার কথা ছিল মমতার। কিন্তু শেষমুহূর্তে সেই বৈঠক বাতিল করে দেওয়া হয়। কারণ হিসাবে জানানো হয়, মমতার দিল্লিযাত্রার কথা। মমতার দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি পূর্বনির্ধারিত। তাই প্রশ্ন উঠেছে, বৈঠকে ডেকে শেষ সময়ে তা বাতিল করার নেপথ্যে কি কাউন্সিলরদের অনুপস্থিত হওয়ার আশঙ্কা?
দিন দুয়েক আগে কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর ইস্তফার পর তৃণমূলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্থির করতেই রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনে কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তৃণমূলনেত্রী মমতার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানা যায়, রবিবার বিকেলের বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না তিনি।
রবিবারের বৈঠক আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে প্রথম থেকেই সংশয় ছিল। গত ৩১ মে মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের ৬০ বিধায়ক। সেই কারণে কালীঘাটের বাড়িতে ডাকা বৈঠক বাতিল করে দেন তৃণমূলনেত্রী। খাতায়-কলমে কলকাতায় তৃণমূলের ১৩৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। তবে নানা অভিযোগে এখনও পর্যন্ত কলকাতার আট জন কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে অনেকে ‘বেসুরো’। কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। আবার কেউ ছেড়েছেন বরো চেয়ারম্যানের পদ। সেই কারণে রবিবারের বৈঠকে কত জন কাউন্সিলর বৈঠকে আসবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল তৃণমূলের অন্দরেই। তৃণমূলের প্রতীকে ৮০ জন বিধায়ক জয়ী হলেও, গত শুক্রবারের বৈঠকে মমতার কালীঘাটের বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন মাত্র আট জন বিধায়ক। রবিবার কাউন্সিলরদের বৈঠকে তেমন ঘটনা যাতে না-ঘটে, তাই আগে ভাগেই তা বাতিল করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন:
গত শুক্রবার কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দেন ফিরহাদ। তার পরে পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়ে দেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। মেয়রের ইস্তফার পরে কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা তিন দিনের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়। উল্লেখ্য, ফিরহাদের ইস্তফার পরে অন্য কাউকে মেয়র হিসাবে বসায়নি তৃণমূল। সে নিয়ে কোনও আবেদনও করা হয়নি বলে সূত্রের খবর। পুরসভায় তৃণমূলের পরবর্তী দলনেতা কে হবেন, তা স্থির করার সম্ভাবনা ছিল রবিবারের বৈঠকে। কিন্তু বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ায় আপাতত তা স্থগিত হয়ে গেল।
সোমবার দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক রয়েছে। তৃণমূলের নির্বাচনী ভরাডুবির পর এটিই ‘ইন্ডিয়া’র প্রথম বৈঠক। তার জন্য রবিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা মমতার।