প্রথম দিন শুভমন গিল ও ঋষভ পন্থ ঠিক যেখানে শেষ করেছিলেন, দ্বিতীয় দিন শুরুটা করলেন সেখান থেকেই। মুল্লানপুরে দ্বিতীয় দিনও দাপট দেখাল ভারত। প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৬৪ রানে ডিক্লেয়ার করল তারা। জবাবে আফগানিস্তানের রান দ্বিতীয় দিনের শেষে ৫ উইকেটে ১১৩। ভারতের থেকে এখনও ৪৫১ রানে পিছিয়ে আফগানিস্তান।
প্রথম দিনই শতরান পূর্ণ করে ফেলেছিলেন শুভমন। পন্থও অর্ধশতরান করে খেলছিলেন। দ্বিতীয় দিন দলের রান আরও বাড়ালেন তাঁরা। তাতে বড় কৃতিত্ব আফগানিস্তানের। প্রথম দিনের পর দ্বিতীয় দিনও দু’টি ভুল করে আফগানিস্তান। পর পর দু’বলে ঘটে সেই ঘটনা। ৮৯তম ওভারে বল করছিলেন আজ়মাতুল্লা ওমরজাই। ব্যাট করছিলেন শুভমন। একটি বল তাঁর প্যাডে লাগে। আবেদন করেন আফগান ক্রিকেটারেরা। আম্পায়ার আউট দেননি। আফগানিস্তানের অধিনায়ক হাসমাতুল্লা শাহিদি উইকেটরক্ষক আফসর জ়াজ়াইকে জিজ্ঞাসা করেন, রিভিউ নেবেন কি না।
শুভমনের প্যাডে দু’বার বল লেগেছিল। সামনের পায়ে লাগার পর পিছনের পায়ে লাগে। দৌড়ে এক রানও নেন তিনি। প্যাডে দু’বার বল লাগায় সম্ভবত ধোঁয়াশায় পড়েন জ়াজ়াই। তাঁর মনে হয় বল লেগ স্টাম্পের বাইরে যেত। তাই রিভিউ নিতে নিষেধ করেন তিনি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল গিয়ে অফ ও লেগ স্টাম্পে লাগছিল। অর্থাৎ, রিভিউ নিলে শুভমন আউট হতেন। তখন ১০৮ রানে খেলছিলেন শুভমন। তিনি করেন ১২৬ রান।
পরের বলেই পন্থের উইকেট পেতে পারতেন ওমরজাই। তাঁর বল পন্থের ব্যাট ঘেঁষে উইকেটরক্ষকের কাছে যায়। আবার আউটের আবেদন করেন আফগান ক্রিকেটারেরা। আম্পায়ার আউট দেননি। সকলকে অবাক করে দিয়ে আবার রিভিউ নেননি শাহিদি। পরে দেখা যায়, পন্থ খোঁচা মেরেছিলেন। সেই সময় ৬৩ রানে খেলছিলেন তিনি। পন্থ করেন ৮১ রান। পর পর দু’বার এই ভুল সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি রহমানুল্লা গুরবাজ়। তিনি প্রকাশ্যে অধিনাককে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি রিভিউ নিলেন না। পন্থ করে ৮১ রান।
রান পেয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। আইপিএলে ভাল ব্যাট করেছেন তিনি। সেই ফর্ম এই ম্যাচেও দেখা গেল। ৫২ রানে অপরাজিত থাকলেন তিনি। সুন্দরের অর্ধশতরানের পরেই ইনিংস ডিক্লেয়ার করেন শুভমন।
ভারত বড় রান করলেও নজর কাড়লেন মহম্মদ সালিম সাফি। এই আফগান পেসার ভারতের ৮ উইকেটের মধ্যে ৬টিই নিয়েছেন। ২৭ ওভারে দিয়েছেন ১৪০ রান। বাকিদের তাঁকে দেখে শেখা উচিত ছিল। সারা ক্ষণ আক্রমণাত্মক বল করেছেন তিনি। তাতে রান হলেও উইকেটের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন।
আরও পড়ুন:
ভারত কেন তিন স্পিনার খেলাচ্ছে, তা আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসে ভাল ভাবে বোঝা গেল। শুরুটা করলেন এই টেস্টে অভিষেক করা মানব সুতার। ষষ্ঠ ওভারে তাঁর হাতে বল তুলে দেন শুভমন। চতুর্থ বলেই আব্দুল মালিককে আউট করেন তিনি। টেস্ট কেরিয়ারে এটি তাঁর প্রথম উইকেট। অপর ওপেনার সেদিকুল্লা অটলকে বোল্ড করেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। আফগানিস্তানের তৃতীয় উইকেটও নেন সুতার। রহমানুল্লা গুরবাজ়কে আউট করেন তিনি।
প্রথম ওভার থেকে সুতারের বল ঘুরছিল। বলের গতিও ভাল ছিল। ফলে সমস্যা হচ্ছিল আফগান ব্যাটারদের। চতুর্থ উইকেটে রহমত শাহ ও অধিনায়ক শাহিদির মধ্যে জুটি হয়। সুতারের পাশাপাশি কুলদীপ যাদবও উইকেট পেতে পারতেন। তাঁর একটি বল শাহিদির ব্যাটে লেগে পন্থের হাতে যায়। কিন্তু আম্পায়ার আউট দেননি। শুভমনেরা ভেবেছিলেন, বল ব্যাটে লাগেনি। ফলে রিভিউ নেননি। পরে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছিল। সেই ওভারেই শাহিদির ক্যাচ ছাড়েন লোকেশ রাহুল।
অবশেষে সেই জুটি ভাঙেন প্রসিদ্ধ। ২০ রানের মাথায় শাহিদিকে আউট করেন তিনি। দিনের শেষে জ়াজ়াইকে আউট করেন সুতার। সেই উইকেট পড়ার পরেই দিনের খেলা শেষ হয়ে যায়। সুতার ১৫.৫ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন।