দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুনের অভিযোগে বর্ধমান থেকে দম্পতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযোগ, অধ্যাপিকাকে খুন করতেই ১৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিলেন তাঁরা। সন্দেহ এড়াতে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন সন্তানকেও। দেবস্মিতার ফ্ল্যাটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দিদি দেবারতি পুলিশে খবর দেন। জানান, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। বারংবার ফোন করা সত্ত্বেও বোন সাড়া দিচ্ছেন না বলে দেবারতি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছিলেন। দেবস্মিতার দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তাঁর মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। এ ছাড়া, হাতের শিরাও কাটা অবস্থায় ছিল। তবে টাকাপয়সা বা গয়নাগাটি কিছুই চুরি যায়নি। পুলিশ তখনই অনুমান করেছিল, চুরি-ডাকাতি নয়, ব্যক্তিগত কোনও আক্রোশ থেকে অধ্যাপিকাকে খুন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
দিল্লিতে একাই থাকতেন দেবস্মিতা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজী কলেজে পড়াতেন তিনি। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁর স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। বর্ধমানে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি ছিল দেবস্মিতার। সেখানেই অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটে হিসাবে থাকতেন। পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছিলেন তাঁরা। ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দেবস্মিতা তাঁদের চাপ দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ।
সিসিটিভিতে দেখা গিয়েছে, দেবস্মিতার সাত তলার ফ্ল্যাটে সিঁড়ি ভেঙে উঠছিলেন দম্পতি। তাঁদের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। প্রায় আধ ঘণ্টা তাঁরা ভিতরে ছিলেন। পরে পোশাক বদলে বাইরে আসেন। নীচে গাড়ি দাঁড় করানোই ছিল। তাতে চেপে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পুলিশ আগে ওই গাড়ির চালককে পাকড়াও করেছিল। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দম্পতির সম্বন্ধে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের অস্ত্র সঙ্গে করেই নিয়ে গিয়েছিলেন দম্পতি।
ফ্ল্যাটের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাতায়াতকারী ২০০ জনকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে থেকে ১৩ জনকে আলাদা করে সন্দেহভাজনদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। দেবস্মিতার স্বামীও তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন। গত দু’দিনে দিল্লি পুলিশের সাতটি দল চার রাজ্যে ঘুরে ঘুরে চিরুনিতল্লাশি চালিয়েছে। বহু লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অবশেষে রবিবার বর্ধমানে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত দম্পতি।