দুপুরবেলা খাওয়ার পর চোখ জুড়ে আসে ঘুম। সুযোগ পেলেই একটু শুয়ে পড়েন। কারও কাছে এটি আরামের অভ্যাস, কারও কাছে ক্লান্তি দূর করার উপায়। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ এখন সতর্ক করছেন, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমোনোর অভ্যাস সব সময় উপকারী না-ও হতে পারে। বরং কিছু ক্ষেত্রে তা রাতের ঘুম নষ্ট করে দিতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের বেলা ঘন ঘন বা দীর্ঘ ক্ষণ ঘুমোনোর প্রয়োজন হলে সেটি অনেক সময় শরীরের কোনও অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
কেন দিনের ঘুম নিয়ে উদ্বেগ?
শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা ছন্দ মেনে কাজ করে। এই ছন্দের উপরই নির্ভর করে কখন শরীর বিশ্রাম চাইবে এবং কখন সক্রিয় থাকবে। চিকিৎসকদের মতে, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে নিলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমচক্র বিঘ্নিত হতে পারে। এর ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে, বার বার ঘুম ভেঙে যেতে পারে কিংবা ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।
দুপুরের ঘুম কেন ক্ষতিকর? ছবি: সংগৃহীত
কখন সমস্যা বেশি হয়?
কয়েকটি ক্ষেত্রে দিনের ঘুম বিশেষ ভাবে সমস্যা তৈরি করতে পারে—
১. যদি প্রতি দিন এক ঘণ্টার বেশি ঘুমোনো হয়
২. যদি বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে ঘুমোনো হয়
৩. যদি আগে থেকেই রাতে ঘুমের সমস্যা থাকে
৪. যদি দিনের ঘুমের পরেও ক্লান্তি না কমে
৫. আগে থেকেই হজমের সমস্যা থাকলে
অতিরিক্ত ঘুম কিসের লক্ষণ?
চিকিৎসকদের মতে, দিনের বেলা বার বার ঘুম পেলে, তা কয়েকটি শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। যেমন—
· রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
· ঘুমের সময়ে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা
· থাইরয়েডের সমস্যা
· মানসিক চাপ বা অবসাদ
· কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
· পুষ্টির ঘাটতি
আরও পড়ুন:
তা হলে কি দুপুরে একেবারেই ঘুমোনো যাবে না?
বিষয়টি ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। অল্প সময়ের জন্য, সাধারণত ২০-৩০ মিনিটের বিশ্রাম অনেকের ক্ষেত্রে ক্লান্তি দূর করার উপায় হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের ঘুম বা নিয়মিত কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়ার অভ্যাস সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের রাতে ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দিনের ঘুম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। তা ছাড়া ঘুমোতে হলে দুপুর ২টোর আগে ঘুমিয়ে নিতে হবে। খাওয়ার পরমুহূর্তেই ঘুমোলে চলবে না, খানিক হাঁটাহাঁটি করে তার পর ঘুমোতে হবে। এই তিনটি কৌশল মেনে তবেই দুপুরে ঘুমোনো উচিত।