সুস্থ শরীরের জন্য ভিটামিনের গুরুত্ব কতটা, তা অনেকেই জানেন। তবে অন্যান্য ভিটামিনের তুলনায় ভিটামিন কে নিয়ে আলোচনা কম হয়। অথচ রক্ত জমাট বাঁধা থেকে শুরু করে হার্ট এবং হাড়ের স্বাস্থ্যরক্ষা— শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এই ভিটামিনের ভূমিকা রয়েছে। আর সেখানেই প্রশংসা কুড়োয় ব্রকোলির মতো সব্জি। এক কাপ ব্রকোলিতে প্রায় ৭৭.৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে পাওয়া যায়! কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এমন অনেক দেশজ খাবার রয়েছে, যা ব্রকোলির থেকেও বেশি ভিটামিন কে-র ধারক। সব ক্ষেত্রে না হলেও কোনও কোনও খাবারে তো বেশি বটেই। সেগুলিই বাজার থেকে এনে সহজে বাড়িতে রান্না করে খেতে পারেন।
রইল সেই তালিকা—
১. মাংসের মেটে: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে২ ছাড়াও, আয়রন, বি ভিটামিন, প্রোটিন এবং আরও অনেক উপাদানে সমৃদ্ধ হয় মুরগির মাংসের মেটে। সাধারণ মাংসের টুকরোগুলির তুলনায় নাড়িভুঁড়ির মাংসে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের ঘনত্ব বেশি থাকে, তবে এটি সকলের জন্য উপযুক্ত না-ও হতে পারে।
২. পালংশাক: সবুজ শাকসব্জির মধ্যে পালংশাক ভিটামিন কে-র অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস। এক কাপ কাঁচা পালংশাকে প্রায় ১৪৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে থাকে। অল্প পরিমাণ পালংশাক খেলেও অনেকখানি পুষ্টি মিলবে। তা ছাড়াও এতে রয়েছে আয়রন, ফাইবার এবং বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টও। তাই এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
৩. ডিমের কুসুম: ডিমের কুসুম ভিটামিন কে-এর একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস। কুসুমে থাকা ফ্যাটের উপাদান শরীরের ভিটামিন কে শোষণে সরাসরি সাহায্য করে। একটি ডিমের কুসুমে প্রায় ৮-৩২ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন কে থাকতে পারে।
৪. সর্ষেশাক: সর্ষেশাক-সহ বিভিন্ন গাঢ় সবুজ পাতাযুক্ত শাকে প্রচুর ভিটামিন কে থাকে। এক কাপ রান্না করা শাকে প্রায় ৫৯৩-৮৩০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে পাওয়া যায়। তা ছাড়াও এতে রয়েছে সালফার যৌগ, যা শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এ ছাড়া সালফার যৌগ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ এবং সংক্রমণগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সাহায্য করতে পারে। সর্ষের শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও ভিটামিন সি-ও রয়েছে।
৫. বিটের পাতা: অনেকেই বিট খেয়ে পাতার অংশ ফেলে দেন। অথচ বিটের পাতাতেও প্রচুর ভিটামিন কে রয়েছে, যা হাড় মজবুত করতে ও হার্ট ভাল রাখতে সাহায্য করে। এক কাপ রান্না করা বিটের পাতায় প্রায় ৬৯৭ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে থাকে।