ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে কমিশনের কাছে। বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সেখানকার নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। রবিবার মধ্যেই সেই পদক্ষেপ করতে বলা হয়। তার পরই সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয় কমিশনের তরফে। অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশনের নির্দেশে বাইবাহিনীর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর দায়ের করল পুলিশ।
সূত্রের খবর, বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, হুমকি, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ভিডিয়ো প্রকাশ করে কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, রবিবারের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের সম্পূর্ণ ভাবে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ বার বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হল।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ডায়মন্ড হারবারে কয়েকটি বাইকে দুষ্কৃতীরা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ওই বাইক মিছিল থেকে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, ‘ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ, মনে থাকে যেন’। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আরও কড়া পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশনের। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য আগে থেকেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণই হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটেও যাতে কোনও রকম অশান্তি না হয়, এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সচেষ্ট কমিশন। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবারই ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে ‘আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ’ দর্শিয়ে সাসপেন্ড করে কমিশন। তার পর সেখানে নতুন পুলিশ আধিকারিকদেরও নিয়ে আসা হয়। এই পরিস্থিতিতে সেখানে দুষ্কৃতীদের হুমকির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কড়া হাতে দমন করার নির্দেশ দেয় কমিশন। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ করা হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
রবিবার কাকদ্বীপে গিয়েছেন সিইও মনোজ অগ্রবাল। সেখানে প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট এবং নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ এবং প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মনোজ জানিয়েছেন, সকলকে বলা হয়েছে, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটারদের ভয় দেখানো কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বেশ কয়েক জন আমলা এবং পুলিশ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করে নির্বাচন কমিশন। বুধবার রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। সেই সব পদে নতুন আধিকারিকও নিয়োগ করে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কমিশন স্পষ্ট জানায়, যাঁদের অপসারণ করা হচ্ছে, তাঁদের এ রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত আর নিয়োগ করা যাবে না!
- পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ক্ষেত্রে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ ভাবে অপসারণের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লেখেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে আগাম কোনও আলোচনা না-করে বা কোনও মতামত না-নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতীতে নির্বাচন চলাকালীন কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা আধিকারিককে সরানোর প্রয়োজন হলে কমিশনের পক্ষ থেকে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিন জনের একটি প্যানেল চাওয়া হত। সেই তালিকা থেকে কমিশন নিজেই এক জনকে বেছে নিত। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এ বার সেই প্রচলিত রীতির সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রার্থিতালিকা ঘোষণার আগেও কমিশনকে এ বিষয়ে তোপ দাগেন মমতা। নিশানা করেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেও।
-
১২:১৪
দ্বিতীয় দফার ভোটে কর্মী সঙ্কট! প্রথম দফায় কাজ করা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগ করার নির্দেশ দিল কমিশন -
১০:০৫
ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে! নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, কাকদ্বীপ যাচ্ছেন সিইও -
০০:৩৩
ভবানীপুরে বিজেপি-কে প্রচারের অনুমতি না দেওয়ায় পুলিশে বদলি হয়েছে, দাবি শুভেন্দু অধিকারীর -
২৩:১৫
ভোটদানের হার আরও বেড়ে ৯৩.১৯%! ২০২১-এর তুলনায় মোট ভোটার ১৭ লক্ষ কমলেও ভোটদাতা বৃদ্ধি ২১ লক্ষাধিক -
২০:৫০
ফের কালীঘাটের ওসি বদল! দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে কলকাতার আরও দুই থানায় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন