ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে কমিশনের কাছে। বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সেখানকার নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। রবিবার মধ্যেই সেই পদক্ষেপ করতে বলা হয়। তার পরই সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয় কমিশনের তরফে। অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমিশনের নির্দেশে বাইবাহিনীর বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় এফআইআর দায়ের করল পুলিশ।
সূত্রের খবর, বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, হুমকি, শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর আগে ভিডিয়ো প্রকাশ করে কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, রবিবারের মধ্যে ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের সম্পূর্ণ ভাবে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ বার বাইকবাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হল।
ডায়মন্ড হারবারে বাইকবাহিনীর হুমকির অভিযোগের ঘটনায় তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, কমিশনের প্রকাশিত ভিডিয়োটি তারা খতিয়ে দেখেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের নেতারা মানুষকে প্রভাবিত করছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মোটরবাইক র্যালিটি ছিল ৯টা ৫১-৫২ মিনিটে। ওই র্যালি থেকে কোনও প্ররোচনামূলক স্লোগান দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের তরফে আরও বলা হয়, ‘‘কমিশনের কাছে আমাদের প্রশ্ন, যে পুলিশ পর্যবেক্ষক বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের হোটেলে গোপনে বৈঠক করতে গিয়ে ধরা পড়লেন, তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? কমিশন যে বিজেপি-কে নানা ভাবে সাহায্য করছে, এটি তার স্পষ্ট উদাহরণ। কিন্তু ৪ মে যখন ব্যালট খোলা হবে, তখন চমকে যাবে কমিশন-বিজেপি।’’
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ডায়মন্ড হারবারে কয়েকটি বাইকে দুষ্কৃতীরা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ওই বাইক মিছিল থেকে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, ‘ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ, মনে থাকে যেন’। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আরও কড়া পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশনের। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য আগে থেকেই বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণই হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটেও যাতে কোনও রকম অশান্তি না হয়, এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সচেষ্ট কমিশন। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবারই ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে ‘আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ’ দর্শিয়ে সাসপেন্ড করে কমিশন। তার পর সেখানে নতুন পুলিশ আধিকারিকদেরও নিয়ে আসা হয়। এই পরিস্থিতিতে সেখানে দুষ্কৃতীদের হুমকির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কড়া হাতে দমন করার নির্দেশ দেয় কমিশন। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ করা হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
রবিবার কাকদ্বীপে গিয়েছেন সিইও মনোজ অগ্রবাল। সেখানে প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনী এজেন্ট এবং নির্বাচনী আধিকারিক এবং পুলিশ এবং প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মনোজ জানিয়েছেন, সকলকে বলা হয়েছে, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ভোটারদের ভয় দেখানো কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
-
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি, ইস্তফা না-দিলেও মমতা এখন ‘প্রাক্তন’ মুখ্যমন্ত্রী! রাজ্য কার?
-
বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী! রাজ্যে প্রচারে এসে দিয়ে গিয়েছিলেন কথা
-
ভোট-পরবর্তী গোলমালে রুজু ২০০ এফআইআর! কেউ কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অশান্তি পাকাতে চাইছেন: ডিজি সিদ্ধনাথ
-
‘কমিশন ১০টি গণনাকেন্দ্রের ছয় ঘণ্টার ফুটেজ দিক, দেখাক কিছু হয়নি, আমি মেনে নেব এটাই জনাদেশ’! চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
-
৪৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে রাজ্যে ২০৭টি আসনে জয় পেল বিজেপি! ৮০টি আসনে জয়ী তৃণমূল, তাদের ভোটের হার কত