যখন অফিস যাচ্ছেন একদম ফিটফাট। সানস্ক্রিন, ফাউন্ডেশন, কাজলের টান, লিপস্টিকের ছোঁয়া। সকালে যে সাজে দেখায় প্রাণবন্ত, বিকেলে আয়নার সামনে দাঁড়ালে, সেই সাজই হয়ে যায় ভিন্ন। কিছুটা কাজের চাপে তো বটেই। কিছুটা পরিবেশের জন্যও।
যে কোনও কর্পোরেট অফিসই এখন বাতানুকূল। সরকারি অফিস, ব্যাঙ্কও এখন আর পুরনো বাড়ির চৌহদ্দিতে আবদ্ধ নেই। বরং বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্রেই এখন দিনভর বাতানুকূল যন্ত্রের আবহে থাকতে হয়। শীত-গ্রীষ্ম, বর্ষা তাতে আরাম মেলে ঠিকই। কিন্তু ত্বকের কি হাল হয়?
নেট প্রভাবী নোয়া দোলনার কথায়, ‘‘দুপুর ১২টার সময় যখন অফিসের স্নানঘরের আয়নায় নিজেকে দেখি, ত্বক জেল্লাহীন, শুষ্ক দেখায়।’’ দীর্ঘ সময় এসি অফিসের আবহে যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁদের অনেকেই এমন পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত। ত্বকের রোগের চিকিৎসক আমিশা মহাজন জানাচ্ছেন, অফিসের এসিগুলি দীর্ঘ ক্ষণ চলে বলে আর্দ্রতার মাত্রা একেবারেই কমে যায়। লম্বা সময় ধরে এমন আবহে থাকার প্রভাব পড়ে ত্বকেও। খুব তাড়াতাড়ি ত্বক থেকে জলের মাত্রা কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক, নিষ্প্রাণ দেখায়। তা ছাড়া, এই শুষ্ক আবহে লম্বা সময় থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা বর্মও ভেঙে পড়ে। তার ফলে এগ্জিমা, ত্বকে চুলকানির মতো সমস্যা দেখা যায়। তা ছাড়া, চড়া রোদে আসার সময়ে ঘাম হয়, ধুলোর পরত পড়ে। তার পর এসি ঘরে ঢুকলে, ত্বকের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে তাপমাত্রার ফারাক।
সমাধান কী?
রাস্তা দিয়ে আসার সময় ঘাম হয়। ধুলো-ময়লাও ত্বকের উপর জমে যায়। অফিসে ঢুকে ভাল করে মুখ ধুয়ে নেওয়া দরকার। দরকার ত্বক বান্ধব ময়েশ্চারাইজ়ার। সেরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান তাতে থাকলে ত্বক দীর্ঘ ক্ষণ আর্দ্র থাকে। তা ছাড়া, অফিসে ডেস্কে একটি ছোট বাটিতে জল রাখতে পারেন। জল থাকলে, সেটি বাষ্পীভূত হবে, আর্দ্রতার মাত্রা কিছুটা কমবে।
দুপুর গড়ালে খাওয়াদাওয়ার পরে ঠোঁটে আবার লিপবামের পরত দিয়ে নিন। কারণ, এসি অফিস ঘরে শুকিয়ে যায় ঠোঁটও। তা আর্দ্র না থাকলে, ঠোঁট ফেটে ছাল উঠতে পারে।
পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ, ত্বক ভাল রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি, পাতে থাকা দরকার টাটকা সব্জি, ফল, প্রোটিন জাতীয় খাবার।