মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে বটে, কিন্তু গরম কমছে না। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে অস্বস্তিও বাড়ছে। তাই এই সময়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। সে কারণে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময়েই দেখা যায়, পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরেও কারও কারও পেশিতে টান ধরে। অতিরিক্ত দুর্বল লাগে। একেবারেই কাজ করতে ইচ্ছে করে না। চিকিৎসক অদ্রিজা রহমান মুখোপাধ্যায় বলেন, “ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে অনেকটা নুন বেরিয়ে যায়। শুধু জল খেলে কিন্তু সেই ঘাটতি পূরণ হয় না। ইলেকট্রোলাইটের মাত্রায় হেরফের হলে পেশিতে টান ধরতেই পারে। ক্লান্ত লাগতে পারে। আমরা যাকে ‘হিট এগজ়শন’ বলে থাকি। নুন-চিনির জল বা ওআরএস খেলে এই পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দেওয়া যায়।”
গরমে মাঝেমধ্যেই শরীরে অস্বস্তিবোধ হয়, তবে সেটি ‘হিট এগজ়শন’-এর কারণে হয়েছে কি না বুঝবেন কি করে? জেনে নিন ‘হিট এগজ়রশন’-এর কয়েকটি উপসর্গ।
১) খুব বেশি পরিশ্রমের কাজ না করেও অনেক সময়ে শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত লাগে। অনেক ক্ষেত্রে ‘হিট এগজ়শন’-এর কারণে এমন হয়।
২) হঠাৎ করে ত্বক বিবর্ণ এবং ঠান্ডা হয়ে যাওয়াও ভাল লক্ষণ নয়। অতিরিক্ত তাপের কারণে এমনটা হতে পারে। এমনটা হলে বুঝতে হবে শরীরে রক্ত চলাচল ঠিকমতো হচ্ছে না, তাই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৩) হঠাৎ করে বমি হলেও সতর্ক হোন। গরমে এমনিতেই শরীরে ডিহাইড্রেশন হয়। ঘন ঘন বমি হলে শরীর থেকে আরও বেশি জল বেরিয়ে যায়, ফলে সমস্যা আরও বাড়ে।
৪) রোদ থেকে ফিরে মাথা ব্যথা করছে? ‘হিট এগজ়শন’ বা ডিহাইড্রেশন থেকে এমন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রথমেই ঠান্ডা জায়গায় কিছু ক্ষণ বসুন, ধীরে ধীরে জল খান। উপসর্গ না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৫) গরমকালে ঘাম তো হবেই। কিন্তু শারীরিক কোনও জটিলতা থাকলে ঘামের ধরন একটু হলেও পাল্টে যায়। পাশাপাশি ত্বকের রং, শ্বাস-প্রশ্বাসের গতিপ্রকৃতি, হৃদ্স্পন্দনের হারের উপরেও নজর রাখা জরুরি। প্রস্রাবের রঙের উপরেও নজর রাখতে হবে। অত্যধিক গাঢ় রঙের প্রস্রাবও ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। ‘হিট এগজ়রশন’-এর কারণে কিন্তু ডিহাইড্রেশন হতেই পারে।