হঠাৎ উঠে দাঁড়াতেই মাথা ঘুরে গেল? ঘর যেন ঘুরছে বলে মনে হচ্ছে? কিংবা হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হচ্ছে? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। কখনও এটি সাময়িক সমস্যা, কখনও আবার অবহেলা করলে বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাথা ঘোরা বা ভার্টিগোর নেপথ্যে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে অনেক সময়ে রোজের কিছু অভ্যাসও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। আর উদ্বেগের বিষয়, তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও এই রোগের বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে এখন। পাঁচটি সাধারণ জীবনযাপনের ভুলে মাথা ঘোরা বা ভার্টিগোর উপসর্গ আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
ভার্টিগো আসলে কী?
ভার্টিগো কোনও রোগ নয়, বরং একটি উপসর্গ। এতে মনে হয় চারপাশ ঘুরছে বা শরীর ভারসাম্য হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্তঃকর্ণের সমস্যা, স্নায়বিক কারণ, সংক্রমণ বা অন্য শারীরিক অসুস্থতার জন্যও ভার্টিগো হতে পারে।
কোন কোন ভুলে সমস্য়া বাড়ছে আরও? ছবি: সংগৃহীত
কোন কোন ভুলে সমস্যা বাড়ে?
সারা রাত ফোন ঘাঁটা: বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ ক্ষণ ফোন ঘাঁটা অত্যন্ত খারাপ স্বভাব। আপনার মস্তিষ্ক ও চোখ একটানা বদলে বদলে যাওয়া ছবি দেখে চলেছে। তাতে মাথা ও চোখ, দুই-ই অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে মাথা ঘোরা, চোখে চাপ এবং ঘুমের ব্যাঘাতের মতো শারীরিক সমস্যা শুরু হয়। এই অভ্যাসের ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও ইন্দ্রিয়গুলি খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ে। যাঁদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য আরও বিপজ্জনক এই অভ্যাস।
একটানা এক ভাবে বসে থাকা: সারা ক্ষণ মাথা ঝুঁকিয়ে বসে থাকতে হয়? তা সে কাজ হোক বা ফোন দেখা। এতে ঘাড়ের পেশি ও সার্ভাইকাল নার্ভের উপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়। ঘাড়ের পেশিগুলিতে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিশেষ কিছু সেন্সর থাকে, কিন্তু ভুল দেহভঙ্গির কারণে এই পেশিতে খিঁচুনি বা টান লাগলে ওই সেন্সরগুলি অকারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এর ফলে মাথা টলমল করা বা অস্থিরতার মতো অনুভূতি তৈরি হয়, যা এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম হয়।
কোন কোন অভ্য়াস ত্যাগ করবেন? ছবি: সংগৃহীত
না ঘুমোনো: মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করা, রাতে সিনেমা-সিরিজ় দেখা, বা জেগে জেগে খাওয়াদাওয়া করা, ইত্যাদি সবই ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। এতে দেহের জৈবিক ঘড়ির ছন্দ বা সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট হয়ে যায়। যখন ঘুম আসার কথা, তখন আসে না। যখন জেগে থাকার কথা, তখন ঘুমে ঢলে পড়েন। এর ফলে মস্তিষ্ক বুঝে উঠতে পারে না। ফলে দেহেও তার প্রভাব পড়ে। মাথা ভাল ভাবে কাজও করতে পারে না। এখন ভার্টিগো বৃদ্ধির বড় কারণ হিসেবে দেখা হয় ঘুমের সমস্যাকে।
মানসিক চাপে থাকা: দীর্ঘ দিন ধরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, মানসিক চাপের মধ্যে আছেন? এর কারণে স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। ফলে, সামান্য নড়াচড়া করলেও মস্তিষ্কে সমস্যা হতে থাকে। আপনি যদি মাথা এক দিক থেকে অন্য দিকে ঘোরান, তা হলে চক্করও দিতে পারে। তখন সব কিছু ঘোলাটে লাগতে পারে, ভারসাম্য হারিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
শরীরের বিপদসঙ্কেত না চেনা: মাঝেমধ্যেই মাথা ঘোরা, মাথা টলমল করা, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো, মাথা ভারী মনে হওয়া, কানে চাপ পড়া, গা বমি হওয়া— এই ধরণের সমস্যা অনেকেই ক্লান্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। চিকিৎসায় দেরি হলে অন্তঃকর্ণের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং শারীরিক ভারসাম্য বজায় রাখার বিষিয়টি বিঘ্নিত হয়ে তীব্র আকার নিতে পারে।