পচে গিয়ে পোকা ধরেছে চিজ়ে। ভিতরে কিলবিল করছে জীবন্ত সব পোকার লার্ভা। তার পরেও এই চিজ়টি খেতে পছন্দ করেন অনেকেই। বেশ দাম দিয়েই কেনা হয় তা। ২০০৯ সালে 'গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড' একে 'বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক চিজ়' বলেছিল। কিছু দেশ এটি খাওয়া নিষিদ্ধ করলেও, এর জনপ্রিয়তা কমেনি। শুধু জনপ্রিয়তার নিরিখে নয়, এটি ইটালির সার্ডিনিয়ান দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী খাবারও বটে। পোকায় ধরা পচা চিজ় ক্যাজ়ু মার্ৎসু কেন এত জনপ্রিয়?
সার্ডিনিয়ান ভাষায় 'ক্যাজ়ু মার্ৎসু' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'পচা চিজ়' । এটি মূলত সার্ডিনিয়ান ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি এক বিশেষ ধরনের পনির । এর তৈরির প্রক্রিয়াটি আর পাঁচটা সাধারণ চিজ়ের মতো নয়। এটি তৈরি করতে চিজ়টিকে আগে পচানো হয়। এর ভিতরে জন্মায় নানা ধরনের পোকা। আর সে সব পোকাই চিজ়ের ভিতরের ফ্যাট গলিয়ে নরম ও ক্রিমের মতো করে তোলে। এতে তার স্বাদ ঝাঁঝালো হয়, এবং সেটিই খেতে ভাল লাগে বলে দাবি করেন ভোজনরসিকেরা।
ক্যাজ়ু মার্ৎসু।
ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের মানুষজনের কাছে ক্যাজ়ু মার্ৎসু কেবল খাবার নয়, এটি তাঁদের বহু বছরের পুরনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি হয় এই চিজ়। সে চিজ় বানিয়ে খোলা বাতাসে রেখে দেওয়া হয়। ‘পিয়োফেলা কেসি’ নামে এক বিশেষ প্রজাতির মাছি এসে চিজ়ের ভিতরে ডিম পেড়ে যায়। ডিম ফুটে যখন লার্ভা বার হয়, তখনই সেটি খাওয়া হয়। স্থানীয়রা বলেন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চিজ়টি বানিয়ে রেখে দেওয়া হয়। যত বেশি পোকার লার্ভা ও পিউপা জন্মায়, ততই চিজ়টির স্বাদ বাড়ে। পোকার শরীর থেকে নির্গত অ্যাসিড চিজ়কে আরও নরম ও সুস্বাদু করে তোলে।
আরও পড়ুন:
সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হল, ক্যাজ়ু মার্ৎসু যখন পরিবেশন করা হয়, তার ভিতরে জীবন্ত পোকা ও লার্ভা কিলবিল করে। সেটি দেখেও তাতে আয়েস করে কামড় বসানো হয়। পোকায় ধরা এমন চিজ় যাঁরা খেয়েছেন, তাঁরা দাবি করেন যে, সেটি মুখে দিলেই নরম ও তুলতুলে অনুভূতি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই চিজ়টি এত রসালো খেতে হয় যে, আলাদা করে ক্রিম মেশানোর প্রয়োজনই হয় না। খাওয়ার পরেও সে স্বাদ নকি দীর্ঘ সময় জিভে লেগে থাকে।
আরও পড়ুন:
ক্যাজ়ু মার্ৎসুর খ্যাতি বিশ্ব জুড়েই। বহু মানুষের কাছেই এই খাবারটি নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সুরক্ষার কারণে এই চিজ়টির বাণিজ্যিক বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে। কয়েকটি দেশে এর বিক্রি কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু, তার পরেও চিজ়টির জনপ্রিয়তা কমেনি।
ইটলীয়রা বিশ্বাস করেন, পোকায় ধরা ক্যাজ়ু মার্ৎসু স্বাস্থ্যকর। পোকারা পনিরের ফ্যাট এবং প্রোটিনকে আগেই ভেঙে দেয়, তাই এটি হজম করা সহজ। খেলে ক্যালোরি বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না। দাবি করা হয়, এই চিজ়ে এত বেশি প্রোবায়োটিক থাকে, যা পেটের জন্য ভাল। যদিও বিজ্ঞানসম্মত ভাবে তার সত্যতা অস্বীকার করেন অনেক চিকিৎসকই। দাবি, চিজ়টি খাওয়ার সময়ে যদি পোকার লার্ভা বা মাছির ডিম জীবন্ত অবস্থাতেই পেটে যায় ও অন্ত্রে গিয়ে সংখ্যায় বাড়ে তা হলে সংক্রমণ ঘটার ঝুঁকি থাকবে। এর থেকে আলসার, ডায়েরিয়াও হতে পারে। পোকা পেটে গেলে বিষক্রিয়া ঘটাও আশ্চর্যের নয়। সার্ডিনিয়ার অধিবাসীরা অবশ্য এমন মত মানেন না। সেখানকার অনেক খামারে এই চিজ়টি গোপনেই তৈরি করা হয়। স্থানীয়েরা জানান, এমন চিজ় খাওয়ার নিয়ম আছে। সে নিয়ম মেনে চললে কোনও শারীরিক সমস্যা হওয়ারই ঝুঁকি থাকবে না।