অন্তঃসত্ত্বা হলেন কি না, তা জানতে বাড়িতেই প্রেগন্যান্সি কিট ব্যবহার করেন অনেকে। সেটি ব্যবহার করা সহজ, তবে ফলাফল নিয়ে অনেক সময়েই দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকে। কিটে দু’টি রঙিন লাইন ফুটে ওঠা মানে ফল ইতিবাচক, আর একটি লাইন এলে বোঝায় নেতিবাচক। কিন্তু যদি দু’টি লাইন দেখানোর পরেও একটি আবছা বা ঝাপসা হয়, তা হলে কী বোঝাবে? চিকিৎসকেরা বলছেন, আবছা দাগটি সাধারণত গর্ভধারণের ইঙ্গিত দিলেও, এর সঠিক সময় এবং দাগের ধরন বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
প্রেগন্যান্সি কিট কী ভাবে কাজ করে?
ঘরোয়া প্রেগন্যান্সি কিটগুলি মূলত প্রস্রাবে ‘হিউম্যান কোরিয়োনিক গোনাডোট্রপিন’ (এইচসিজি) হরমোনের উপস্থিতি শনাক্ত করে। জরায়ুতে নিষিক্ত ডিম্বাণু প্রতিস্থাপিত হওয়ার পর শরীর এই হরমোনটি তৈরি করতে শুরু করে এবং দ্রুত এর মাত্রা বাড়তে থাকে। এই হরমোনটি যদি প্রস্রাবে অধিক মাত্রায় থাকে, তা হলেই বুঝতে হবে যে, গর্ভধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রস্রাবের কয়েকটি ফোঁটা স্ট্রিপের উপর ফেললে এইচসিজি হরমোনের উপস্থিতির কারণে দু’টি গাঢ় রঙিন লাইন ফুটে উঠবে। তখন বোঝা যাবে, ফল ইতিবাচক। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে এইচসিজি হরমোন থাকলে দু’টি দাগই গাঢ় রঙের হবে। কিন্তু যদি একটি দাগ গাঢ় রঙের ও অন্য ঝাপসা আসে, তা হলেই বিভ্রান্তি বাড়ে। ফল আদৌ ইতিবাচক বা নেতিবাচক, সে নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
আরও পড়ুন:
হালকা দাগের অর্থ কী?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে হালকা দাগকেও ইতিবাচক ফলাফল হিসেবেই গণ্য করা হয়। দাগটি যত আবছাই হোক না কেন, এর অর্থ হল শরীরে এইচসিজি হরমোন তৈরি হওয়া শুরু হয়েছে, তবে এর মাত্রা খুব কম। নানা কারণে তা হতে পারে।
১) গর্ভধারণের একদম প্রাথমিক পর্যায়ে যদি পরীক্ষাটি করা হয়, তা হলে দ্বিতীয় দাগটি আবছা আসে। এর রং যদি খুব হালকা হয়, তা হলে বুঝতে হবে, সময়ের আগেই টেস্ট করা হয়েছে। ডিম্বাণু প্রতিস্থাপনের প্রথম কয়েক দিনে শরীরে এইচসিজি হরমোনের মাত্রা কম থাকে। টেস্ট কিট হরমোনটি শনাক্ত করতে পারলেও তা গাঢ় লাইন তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত থাকে না।
২) পরীক্ষাটি করার আগে যদি কেউ প্রচুর পরিমাণে জল বা তরল খাবার খেয়ে ফেলেন, তা হলে প্রস্রাবে হরমোনের ঘনত্ব কমে যায়। তখন রং ঝাপসা আসতে পারে। আবার দুপুর বা সন্ধ্যায় পরীক্ষাটি করলে সে সময়েও রং হালকা দেখাতে পারে। প্রেগন্যান্সি টেস্ট করার সঠিক সময় হল সকালবেলা। ওই সময়ে প্রস্রাবের ঘনত্ব বেশি থাকে এবং তাতে হরমোনের মাত্রাও বেশি থাকে।
৩) বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা যাঁরা করাচ্ছেন বা সেই সংক্রান্ত ওষুধপত্র নিয়মিত খান, তাঁদের এইচসিজি সমৃদ্ধ ওষুধ দেওয়া হয়। তাই অনেক সময়েই ঘরোয়া পরীক্ষার ফলাফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
৪) টেস্টের নির্দেশিকায় যে সময় দেওয়া থাকে (সাধারণত ৩ থেকে ৫ মিনিট), তা পার হয়ে যাওয়ার পর মূত্র শুকিয়ে গেলে স্ট্রিপে একটি দাগ দেখা যেতে পারে। একে বলে ইভাপোরেশন লাইন। অনেক সময়ে এই দাগটিও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
টেস্টের ফলাফল এক বার বিভ্রান্তিকর এলে চিকিৎসকেরা ২ থেকে ৩ দিন পর পুনরায় টেস্ট করার পরামর্শ দেন। কিন্তু বারংবার ফলাফল একই রকম এলে, তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। সে ক্ষেত্রে রক্তের কিছু পরীক্ষা করিয়ে বা আলট্রাসাউন্ড করে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।