Advertisement
E-Paper

যে অঙ্গটিকে ভাবা হত ‘অকেজো’, সেখানেই বাসা বাঁধছে ক্যানসার! কারণ নিয়ে ধোঁয়াশায় বিজ্ঞানীরা

পঞ্চাশ পেরোতে না পেরোতেই শরীরে থাবা বসাচ্ছে মারণ রোগ। আর তা হচ্ছে শরীরের এমন এক অঙ্গে, যাকে এত দিন অকেজো বলেই মনা করা হত। ক্যানসারের এমন এক বিরল রূপ, যা আগে দশ লক্ষে হয়তো এক জনের হত, কিন্তু এখন তা ক্রমেই বাড়ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১১:৫৭
Why is a Rare Appendix Cancer Surging among Young Adults

অকেজো অঙ্গে বাসা বাঁধছে ক্যানসার, ছড়াচ্ছে সারা শরীরে। ছবি: ফ্রিপিক।

শরীরের সবচেয়ে নিষ্ক্রিয় অঙ্গটিকে নিশানা করেছে মারণ রোগ। যে অঙ্গটিকে অকেজো বলেই মনে করা হত, সেখানেই বেড়ে উঠছে ক্যানসারের এক বিরল রূপ। তা ছড়িয়ে পড়ছে সারা শরীরে। পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই থাবা বসাচ্ছে এই ক্যানসার। আক্রান্ত কমবয়সিরাই। আর পাঁচরকম ক্যানসারের চেয়ে এর ধরন ও লক্ষণ— দুই-ই অনেক আলাদা।

আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা ক্যানসারটিকে চিহ্নিত করেছেন। একে বলে ‘অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমা’ বা ‘নিউরোএন্ডোক্রিন ক্যানসার’। অ্যাপেনডিক্সে এই ক্যানসারের জন্ম এবং সেখান থেকে তা খুব দ্রুত কোলন বা বৃহদন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে। আবার এমনও দেখা গিয়েছে, অ্যাপেনডিক্সে গজিয়ে ওঠা টিউমার পাকস্থলী বা খাদ্যনালিতেও ছড়িয়েছে। এর উৎস কী, তা সঠিক ভাবে জানা না থাকায়, রোগটি শনাক্ত হতে যেমন দেরি হয়, তেমনই এর চিকিৎসাপদ্ধতিও খুব জটিল।

কতটা ভয়াবহ অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমা?

ক্ষুদ্রান্ত্র আর বৃহদন্ত্রের সন্ধিস্থলে ছোট থলির মতো একটি অঙ্গ থাকে, যাকে বলে অ্যাপেনডিক্স। শরীরের ডান দিকে তলপেটের কাছে থাকে সেটি। এমনিতে এই অঙ্গটির কোনও কাজ নেই। তবে সেখানে যদি ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে, তখনই জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়। অ্যাপেনডিক্সকে এতদিন অপ্রোজনীয় বলেই মনে করা হত, কিন্তু ইদানীংকালে দেখা যাচ্ছে, সেখানেই গজিয়ে উঠছে টিউমার। সেটি অ্যাপেনডিক্স থেকে ছড়িয়ে পড়ছে অন্ত্র ও কোলনে। তবে অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমা সাধারণ কোলন ক্যানসার বা পাকস্থলীর ক্যানসারের চেয়ে আলাদা। এ ক্ষেত্রে যে টিউমার তৈরি হয়, তার গঠন ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। এই টিউমার শরীরের নানা অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে খুব সহজে এবং অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমার থেকেই আরও নানা ধরনের ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে শরীরে।

লক্ষণ দেখে বোঝার উপায় নেই।

অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা হলে এখন চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার না করে ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা করেন। ফলে তার ভিতরে থাকা টিউমারটি আড়ালেই থেকে যায়। তলপেটে ব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়ার পাশাপাশি কোমরের নীচের অংশে ব্যথা হয় রোগীর। এই লক্ষণ দেখে বোঝা সম্ভবই নয়, যে অ্যাপেনডিক্সে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণ এমন হয় যে, জরায়ুতে সিস্ট বা এন্ডোমেট্রিয়োসিসের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। মহিলাদের ঋতুস্রাবকালীন সময়ে তলপেটে অসহ্য ব্যথা হতে থাকে, ঋতুস্রাব অনিয়মিতও হয়ে যায়।

অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। গবেষকদের অনুমান, প্রক্রিয়াজাত খাবার বা জাঙ্ক ফুডে যে ধরনের রাসায়নিক ও প্রিজ়ারভেটিভ মেশানো হচ্ছে, তা থেকে এই ক্যানসার ঘটতে পারে। আক্রান্তদের পরীক্ষা করে টিউমারের ভিতরে মাইক্রোপ্লাস্টিকও পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হল, গবেষকেরা দেখেছেন, অধিক পরিমাণে ও প্রায় নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে এবং সঙ্গে মদ্যপান বেশি করলে, পরিপাকতন্ত্রের জিনগত পরিবর্তন ঘটে। এই বদল পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও ছড়াতে পারে। তাই সতর্ক না হলেই বিপদ।

Cancer Risk cancer awareness Appendicitis
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy