অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কি ব্যায়াম করা উচিত? এই প্রশ্ন ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। সম্প্রতি এক ভিডিয়োতে হবু মায়ের কীর্তি দেখে হতবাক অনেকেই! ভিডিয়োতে
ন’মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে দেখা যাচ্ছে শীর্ষাসন করতে। পরনে তাঁর শাড়ি। শুধু শীর্ষাসন নয়, একের পর এক কঠিন ‘স্টান্ট’ করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। ভিডিয়োর নীচে মহিলা লিখেছেন, ‘‘৩৯ সপ্তাহ। ৯ মাস। জীবনের এই পর্বটা এ ভাবেই উদ্যাপন করছি।’’ ভিডিয়ো দেখার পর যেমন অনেক মানুষ মহিলার মনের জোর, শারীরিক দক্ষতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন, তেমনই অনেকের মতে এই ধরনের যোগাসন করে তিনি শিশুর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতে ফিট থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এ সময়ে কী ধরনের ব্যায়াম করা উচিত? এটা একটা বড় প্রশ্ন। কেউ পরামর্শ দেন যোগাভ্যাস করার। কেউ আবার জিমে গিয়ে হালকা কসরত করতে বলেন। ফিটনেসবিদদের মতে, সবচেয়ে ভাল হয় চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে যদি ব্যায়াম করা যায়। কারও যদি গর্ভধারণ সম্পর্কিত কোনও জটিলতা থাকে, সে ক্ষেত্রে জিম বা যে কোনও ভারী ব্যায়াম না করাই উচিত।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কি শারীরচর্চা করা উচিত? ছবি: সংগৃহীত।
স্ত্রীরোগ চিকিৎসক অর্চনা ধাওয়ান বাজাজের মতে, ‘‘অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার শেষ সপ্তাহগুলিতে শীর্ষাসনের মতো কঠিন যোগাসন সবার জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। এমনকি যাঁরা বছরের পর বছর ধরে যোগব্যায়াম করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এমন ঝুঁকি না নেওয়াই ভাল। গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলোতে শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, অস্থিসন্ধিগুলি শিথিল হয়ে পড়ার মতো নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে এই সময়ে। ফলে একজন নারীর পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি এই সময় অনেকটাই বেশি থাকে।’’
তা হলে কি এই পর্যায়ে শারীরচর্চা বন্ধ করে দেওয়া উচিত?
সন্তানধারণে কোনও রকম শারীরিক সমস্যা না থাকলে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার শেষের দিকেও হালকা ব্যায়াম, সহজ কিছু যোগাসন করা যেতেই পারে। চিকিৎসক অর্চনা বলেন, ‘‘এই সময় প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অন্তঃসত্ত্বাদের জন্যই কিছু নির্ধারিত যোগাসন (প্রিন্যাটাল যোগাসন) আছে, সেগুলি করা যেতেই পারে। এ ছাড়া হাঁটাহাঁটি, স্ট্রেচিং, শ্রোণিদেশের কিছু ব্যায়াম, শ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে। সব অন্তঃসত্ত্বাদের শারীরিক অবস্থা এক রকম হয় না, তাই শারীরচর্চা করবেন কি না, তা নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই ভাল।’’