বাজার থেকে আনা খাবার বা মশলা দেখতে যতই আকর্ষণীয় হোক, তার মধ্যে ভেজাল মিশে থাকার আশঙ্কা আজকাল অনেকটাই বেশি। দুধ থেকে মশলা, ডাল থেকে মধু— প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্য নিয়েই মাঝেমধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয় দেশজুড়ে। সাধারণ মানুষের পক্ষে গবেষণাগারে গিয়ে পরীক্ষা করানো সম্ভব নয়। তাই কাতার নিবাসী খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আধিকারিক অহনা নজ়র হাফিস সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে কয়েকটি সহজ ঘরোয়া পরীক্ষার কথা জানালেন। সেগুলির সাহায্যে কিছু সাধারণ ভেজাল সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। যদিও এই পরীক্ষাগুলি শতভাগ নির্ভুল নয়, তবু সন্দেহজনক পণ্য চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে।
ভেজাল চিহ্নিত করুন সহজ উপায়ে। ছবি: সংগৃহীত
হলুদগুঁড়ো খাঁটি কি না, পরখ করবেন কী ভাবে?
হলুদের মধ্যে অনেক সময়ে কৃত্রিম রং বা অন্য উপাদান মেশানো হয়। তাই এক গ্লাস জলে এক চামচ হলুদগুঁড়ো ঢেলে পরীক্ষা করতে পারেন। ভাল করে না নেড়েচেড়ে কিছু ক্ষণ রেখে দিন। যদি রং খুব দ্রুত জলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বা তলায় অস্বাভাবিক রঙিন স্তর জমে, তা হলে ভেজালের সম্ভাবনা থাকতে পারে। খাঁটি হলুদ সাধারণত ধীরে ধীরে তলানিতে চলে যায় এবং জল হঠাৎ অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙে ভরে যায় না।
লঙ্কাগুঁড়োর ভেজাল ধরবেন কী করে?
কিছু ক্ষেত্রে লঙ্কাগুঁড়োয় কৃত্রিম রং বা ইটের গুঁড়ো মেশানো হতে পারে। তাই এক গ্লাস জলে সামান্য লঙ্কাগুঁড়ো ফেলে দিন। যদি জলের উপর ভাসমান উজ্জ্বল রঙের আস্তরণ দেখা যায় বা দ্রুত রং ছড়িয়ে পড়ে, তা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। খাঁটি লঙ্কাগুঁড়ো সাধারণত ধীরে ধীরে জলের সঙ্গে মিশে যায়। অথবা তলানিতে থিতিয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন:
দুধে জল মেশানো হয়েছে কি না কী ভাবে বুঝবেন?
একটি পরিষ্কার কাচ বা মসৃণ পৃষ্ঠে এক ফোঁটা দুধ ফেলুন। দুধ যদি ধীরে ধীরে গড়িয়ে নামে এবং পিছনে সাদা দাগ রেখে যায়, তা হলে তা তুলনামূলক ঘন হতে পারে। খুব দ্রুত বয়ে গেলে এবং কোনও দাগ ছেড়ে না গেলে বুঝবেন, তাতে অতিরিক্ত জল মিশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গুলি চায়ে ভেজাল ধরবেন কী ভাবে?
শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা চা ছাড়া চলে না। এ বার সেই চায়েই যদি ভেজাল মিশে থাকে, তা হলে তা বিপজ্জনক। চা খাঁটি কি না বোঝার জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা জলে এক চিমটে গুলি চা ঢেলে দিন। যদি রং তৈরি না হয় জলের, বুঝবেন, সেটি খাঁটি। কিন্তু রং ছড়িয়ে পড়লে তা বিশুদ্ধ নয়।