Advertisement
E-Paper

উপোস করেই ওজন কমছে অনেকের! কোন কোন শারীরিক সমস্যা থাকলে ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ না করাই ভাল

অনেকেই পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া শুধুমাত্র সমাজমাধ্যমের উপর নির্ভর করেই ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ করতে শুরু করেন। তবে নতুন ডায়েট শুরু করার আগে জেনে নিন, কাদের জন্য এই ডায়েট উপকারের চেয়ে বেশি অপকার করবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৯:২৭
কারা ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ করবেন না?

কারা ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ করবেন না? ছবি: সংগৃহীত।

‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ অর্থাৎ, দিনের একটা দীর্ঘ সময় উপোস করে অল্প সময়ের মধ্যে খাওয়াদাওয়া করা। রোগা হওয়ার এই উপায় বছর পাঁচ-ছয়েক হল স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে যাঁরা নাছোড় মেদের বোঝা বয়ে বয়ে ক্লান্ত, তাঁরা স্বাস্থ্যোদ্ধারের নতুন উপায় হিসাবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বেছে নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক অতীতে বহু বলিউড তারকাই তাঁদের চেহারায় আমূল পরিবর্তন আনার নেপথ্যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। ফলে তা সাধারণ মানুষকেও প্রভাবিত করতে শুরু করেছে। ওজন কমানোর এই পদ্ধতি অনেকের কাছেই আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হচ্ছে। অন্তত শারীরচর্চা করে, খাবারে কড়া নিয়ন্ত্রণ টেনে রোগা হওয়ার থেকে সহজ তো বটেই। এটি করার জন্য কেবল কিছু ক্ষণ খিদের কথা ভুলে থাকতে হবে। বাকি সময়ে খাওয়াদাওয়ার খুব বেশি কড়াকড়িও নেই। তবে ওজন ঝরানোর এই পদ্ধতি সবার জন্য ভাল নয়।

অনেকেই পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া শুধুমাত্র সমাজমাধ্যমের উপর নির্ভর করেই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করতে শুরু করেন। তবে নতুন ডায়েট শুরু করার আগে জেনে নিন, কাদের জন্য এই ডায়েট উপকারের চেয়ে বেশি অপকার করবে।

১) এই ধরনের ডায়েটের ফলে রক্তে শর্করার তারতম্য ঘটে। দীর্ঘ ক্ষণ না খেয়ে থাকলে ব্যক্তির রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যেতে পারে বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। তার ফলে ব্যক্তি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন। মাথা ঘোরার সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই যাঁদের সুগার রয়েছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার আগে তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

২) সন্তান জন্মের পরবর্তী সময়ে মহিলাদের ওজন বেড়ে যায়। তবে সেই সময়ে চটজলদি ওজন ঝরাতে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করা মোটেও উচিত নয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা ও স্তন্যদানকালে মা ও শিশু উভয়ের প্রয়োজন মেটাতে শরীরের নিয়মিত পুষ্টির জোগান প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে খাবার না খেলে তা মায়ের শরীর পুষ্টির অভাব হবে, স্তনদুগ্ধ উৎপাদনের হারও কমবে।

৩) চিকিৎসক আরও সতর্ক করেছেন যে, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, আলসার বা গ্যাস্ট্রাইটিসের মতো পরিপাকতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং না করাই ভাল। দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে থাকলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে, ফলে শারীরিক অস্বস্তি, পেট ফাঁপা বা বদহজমের সমস্যা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

৪) ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং-এ দীর্ঘ সময় উপোস করে থাকতে হয়। উপোসের ফলে রক্তে ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা কমে গেলে শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের ক্রনিক অসুখ থাকলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করা উচিত নয়।

৫) অল্প বয়সে এবং কিশোরকালে দেহের গঠনের জন্য অধিক পুষ্টির প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে তাঁদের শরীর খারাপ হতে পারে। তাই ১৮ বছরের কম বয়সিদের এই ধরনের উপোসের অভ্যাস না করাই ভাল।

Intermittent Fasting
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy