সুস্থ থাকার খোঁজ চলছে বিশ্ব জুড়ে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ধারা। স্বাস্থ্যসচেতনতার এই হাওয়ায় ফিরে আসছে বহু প্রাচীন পন্থাও। তারই মধ্যে ঘিয়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। একাধিক বলিউড তারকা থেকে পুষ্টিবিদদের একাংশ ঘিয়ের উপকারিতা নিয়ে প্রচারও করছেন। জীবনে পরিবর্তন আসতে পারে এই একটি অভ্যাস রপ্ত করলেই।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন ঘি?
সকালে এক চামচ ঘি খেতে হবে। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক পরিমাণে এবং সুষম আহারের অংশ হিসেবে ঘি খেলে তা হজমশক্তি বাড়ায়, শক্তির জোগান দেয় এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভাল করে।
ভারতীয় পরিবারে বহু প্রজন্ম ধরে ঘি খাওয়ার রীতি রয়েছে। বিশেষ করে, উত্তর ভারতের দিকে পরোটা-রুটির সঙ্গে ঘি খাওয়ার চল রয়েছে। এখন সচেতন খাওয়াদাওয়ার যুগে সেই অভ্যাস আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ, ঘি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা শরীরকে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করতে পারে।
পেট ভাল রাখার জন্য ঘি গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: সংগৃহীত
সকালে ঘি কী ভাবে খাবেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালের অভ্যাসগুলিই সারা দিনের স্বাস্থ্যের অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যে ‘মর্নিং রুটিন’ অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর উপায়ে দিন শুরুর বিষয়টি এতখানি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রাতরাশে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে যদি এক চামচ ঘি খাওয়া যায়, তা হলে হজমের সমস্যা কমবে। আর খাবার যদি ভাল ভাবে হজম হয়, তবেই পুষ্টিউপাদানগুলি শরীরে শোষিত হবে। আর পুষ্টি সঠিক ভাবে শোষিত হলে সারা দিন গায়ে বল পাওয়া যায়। সকালে তাই খাবারের সঙ্গে ঘি খাওয়া উচিত।
কী কী উপকার পায় শরীর?
১. হজমে সাহায্য করে: ঘিয়ে উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা পরিপাকতন্ত্রকে ভাল রাখতে পারে। বিশেষ করে, ঘিয়ের মধ্যে থাকা বিউটিরিক অ্যাসিড অন্ত্রের আবরণকে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। ফলে খাবার হজমের প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হতে পারে।
২. পেট ভর্তি রাখে: সকালে অল্প পরিমাণ ঘি খেলে পেট অনেক ক্ষণ ভর্তি থাকতে পারে। এর ফলে বার বার খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কিছুটা কমতে পারে।
ত্বকের জন্য ঘি কী ভাবে উপকারী? ছবি: সংগৃহীত
৩. শক্তি জোগায়: চিনি বা অতিরিক্ত ক্যাফিনযুক্ত খাবার দ্রুত শক্তি জোগালেও অনেক সময়ে অল্প ক্ষণ পরেই ক্লান্তি আসে। ঘি ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় বলে শক্তির ওঠানামা তুলনামূলক কম হতে পারে।
৪. পুষ্টি শোষণ করায়: হজম ভাল হলে শরীর ভিটামিন, খনিজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি আরও ভাল ভাবে শোষণ করতে পারে। ঘি সেই প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে পারে।
৫. ত্বক ভাল রাখে: পেট ভাল রাখলে, হজমের সমস্যা কমলে তার ছাপ পড়ে ত্বকেও। অকালবার্ধক্য, দাগছোপ, বলিরেখা, চামড়া ঝুলে পড়ার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় বলেই বলিউডের নায়িকারা সকালে ঘি খাওয়ার অভ্যাস রপ্ত করেছেন। ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই রয়েছে ঘিয়ে। যেগুলি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য এবং আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্য খুব কার্যকরী।
আরও পড়ুন:
তবে পরিমিত পরিমাণে ঘি খেতে হবে। ঘি কোনও জাদুকরী খাবার নয়। বেশি পরিমাণে খেলে অতিরিক্ত উপকার পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ভুল। বরং সুষম আহারের অংশ হিসেবে অল্প পরিমাণ ভাল মানের ঘি খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত এক চা চামচ বা এক ছোট চামচ ঘি দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে।