Advertisement
E-Paper

সম্মান না পেলে আর তৃণমূলে নয়! আইপ্যাককে দুষে ঘোষণা অনুব্রতের, মুখ খুললেন ভোটে নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও

গরুপাচার মামলায় অনুব্রতকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। দীর্ঘ দিন জেল খেটেছেন। তিহাড় থেকে ফেরার পর রাজনীতিতে তাঁকে আর সে ভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১২:২৬
বীরভূমে দলীয় কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অনুব্রত মণ্ডল।

বীরভূমে দলীয় কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি অনুব্রত মণ্ডল। —নিজস্ব চিত্র।

সম্মান না পেলে আর তৃণমূলের সঙ্গে থাকবেন না। জানিয়ে দিলেন বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। রাজ্যে দলের এই ভরাডুবির জন্য দায়ী করেছেন আইপ্যাককে। অভিযোগ, জেলা থেকে শুরু করে ব্লক স্তর পর্যন্ত সর্বত্রই টাকা তুলত ওই সংস্থা। সেই কারণেই দলের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সম্প্রতি লোকসভা এবং বিধানসভায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পৃথক ব্লক গড়ার চেষ্টাতেও ভুল কিছু দেখছেন না অনুব্রত।

গরুপাচার মামলায় অনুব্রতকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। দীর্ঘ দিন জেল খেটেছেন। তিহাড় থেকে ফেরার পর রাজনীতিতে তাঁকে আর সে ভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বীরভূমে অনুব্রতের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসাবে তৃণমূলের অন্দরেই মাথা তুলেছিল আর এক নাম— কাজল শেখ। তাঁকে হাসন থেকে এ বার টিকিটও দিয়েছিল দল। পরিবর্তনের হাওয়াতেও তিনি জিতেছেন। তবে ভোটের প্রচারে অনুব্রতকে সে ভাবে দেখা যায়নি। দলের ভরাডুবির জন্য আইপ্যাককে দুষে তিনি বলেছেন, ‘‘১৯৯৮ সালে দল তৈরি হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী ছিলেন। আমরা সাতটি আসন জিতেছিলাম। তখন কোনও জ্ঞানীমুনি ছিল না। আমাদের মতো রাখাল-বাগালরাই দলকে টেনেছে। আইপ্যাককে তখন দরকার হয়নি। পরে তাদের প্রয়োজন পড়ল কেন? ওদের জন্যই দলের এই ভরাডুবি। দুনিয়ার লোকের কাছ থেকে ওরা টাকা তুলেছে। রাজনীতির কিছু জানে না। ওরা পয়সা কামাতেই এসেছিল।’’

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। সেই কংগ্রেসকে চটানো ভুল হয়েছে বলে মনে করেন অনুব্রত। তাঁর আক্ষেপ, ‘কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আমরা ক্ষমতায় এলাম। কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে! আইপ্যাক এত টাকা তুলল। কিন্তু কেউ যদি জেগে ঘুমায়, দলের তো এই অবস্থা হবেই।’’

পরাজয়ের পর তৃণমূলের অনেক বিধায়ক এবং সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন। বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভেঙে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৯ জন বিধায়ক চিঠি দিয়েছেন স্পিকারকে। তাঁরাই নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছেন। আবার, সংসদীয় দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সাংসদেরা চিঠি দিয়েছেন লোকসভার স্পিকারকে। সূত্রের দাবি, তাঁরা পৃথক ব্লক গড়তে চেয়েছেন এবং এনডিএ-র শরিক হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অনুব্রত এই ‘বিদ্রোহী’দের কোনও ভুল দেখছেন না। তাঁর কথায়, ‘‘ভুল তো করছেন না। বিজেপিতে তো যাচ্ছেন না। আলাদা ফ্রন্ট করছেন। সকলে যে দিকে যাবেন, সে দিকেই তো যেতে হবে।’’ অনুব্রতের আরও সংযোজন, ‘‘মমতা একা হয়ে গিয়েছেন। দেখে খারাপ লাগছে। ওঁকে আমরা সকলেই ভালবাসতাম। কিন্তু শেষ দিকে উনি কার পাল্লায় পড়লেন জানি না।’’

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে কোনও দায়িত্বই দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন অনুব্রত। বলেছেন, ‘‘এ বার আমাকে ভোটের দায়িত্বই দেননি। কোর কমিটির বৈঠকে প্রশ্ন করেছিলাম, আমার কী ভূমিকা? বলা হয়, কোনও বিধায়ক ডাকলে আপনি যাবেন না। তা হলে আগ বাড়িয়ে আমার যাওয়ার দরকার কী? আমি তাই কিছু করিনি। বিজেপি খেটেছে, তাই জিতেছে।’’

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে এখনও তেমন ভাবনাচিন্তা করেননি অনুব্রত। তাঁর কথায়, ‘‘সম্মান পেলে আমি দল করব। না পেলে চুপচাপ থাকব। অন্য দলে যাব না। বিজেপিতে যাওয়ার কথা এখনও ভাবিনি। জেল থেকে ফেরার পর থেকেই আমি রাজনীতি করা বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা অন্য জনের হাতে ঘি খেয়েছে। আমার হাতে খায়নি।’’

Anubrata Mondal TMC Birbhum
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy