E-Paper

প্রতিষেধক নেওয়ার পরেও জলাতঙ্কে মৃত্যু

পরিবার জানিয়েছে, ৪ মে সকালে পেশায় ট্রাক্টর চালক সুরেশের হাত ও পায়ে একটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর কামড় দেয়।

দয়াল সেনগুপ্ত 

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৯:২৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

জলাতঙ্কের প্রতিষেধক নেওয়ার পরেও, সে রোগেই বীরভূমের এক যুবকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সরব আত্মীয়েরা। গত মঙ্গলবার বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে জলাতঙ্কে মৃত্যু হয় বীরভূমের রাজনগরের বাঁন্দী গ্রামের বাসিন্দা বছর ৩৭-এর সুরেশ ডোমের। যদিও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ হয়নি।

পরিবার জানিয়েছে, ৪ মে সকালে পেশায় ট্রাক্টর চালক সুরেশের হাত ও পায়ে একটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুর কামড় দেয়। ঘণ্টা দু’য়েক পরেই রাজনগরের ব্লক হাসপাতালে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক ‘অ্যান্টি-র‌্যাবিস ভ্যাকসিন’ এবং ‘অ্যান্টি-র‌্যাবিস সিরাম’ (ইমিউনোগ্লোবিউলিন) নেন তিনি। এর পরে নিয়ম মেনে তিন দিন, সাত দিন এবং ২৮ দিনের মাথায় ফের ওষুধ নেন। কুকুরটি ইতিমধ্যেমারা যায়।

সুরেশ ডোমের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ডিসচার্জ স্লিপ। নিজস্ব চিত্র

সুরেশ ডোমের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের ডিসচার্জ স্লিপ। নিজস্ব চিত্র

সুরেশের স্ত্রী মামণি ডোম বলেন, ‘‘১ জুন শেষ বার টিকা নেওয়ার পরে ও বলেছিল, শরীরের বিভিন্ন অংশে জ্বালা করছে। ৬ জুন,শনিবার জ্বর আসে। সন্ধ্যার পরে কষ্ট বাড়ে। জল দেখলে ভয় পাচ্ছিল। খেতেও পাচ্ছিল না।’’ শনিবার মাঝ রাতে সুরেশকে প্রথমে রাজনগর ব্লক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সিউড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার সিউড়ি থেকে বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সুরেশের বড় দাদা বিশ্বনাথ ডোম বলেন, ‘‘আইডির চিকিৎসকেরা জানান করার কিছু নেই। তাঁরা বলেছিলেন, পদ্ধতি মেনে টিকা দেওয়া হয়নি। লালা ঝরছিল। ছটফট করতে করতে ভাইটা মরে গেল!’’ হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ স্লিপে মৃত্যুর কারণ ‘জলাতঙ্ক’ লেখা হয়েছে।

২০১২ সালের ২৭ অক্টোবরে দুবরাজপুরের সগড় গ্রামে একটি কুকুর চার জনকে কামড়েছিল। চার জনই দুবরাজপুর গ্রামীণ হাসপাতালে থেকে প্রতিষেধক এবং ‘অ্যান্টি র‌্যাবিস সিরাম’ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরেও দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। জলাতঙ্ক-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুমিত পোদ্দার বলেন, ‘‘কুকুরে কামড়ালে ক্ষতস্থান প্রথমেই সাবান-জল দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিতে হয়। না ধোয়া হয়ে থাকলে, ঝুঁকি বাড়ে। কী হয়েছিল জানতে হবে। এর বাইরে, টিকা দেওয়ার পদ্ধতিগত সমস্যাও থাকতে পারে।’’

বীরভূম স্বাস্থ্য-জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষ বলেন, ‘‘সাপের মতো কুকুরে কামড়ালে (১০০ মিনিটের মধ্যে) দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন। ক্ষতস্থান কড়া ক্ষার-যুক্ত সাবান দিয়ে ধুতে হয়। ব্লক হাসপাতাল থেকে জেনেছি, এআরভি এবং এআরএস দেওয়া হয়েছিল। তার পরে দু’-একটি ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে যায়। এ ক্ষেত্রে কী হয়েছে খতিয়ে দেখতে হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

rajnagar Beleghata ID

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy