এখন সে একাদশ শ্রেণির কিশোরী। তবে এখনও তাকে দেখলে সবার মনে পড়ে ‘ভুতু’র কথাই। অভিনেত্রী আর্শিয়া মুখোপাধ্যায়কে মনে আছে? প্রায় ১১ বছর আগে শিশুশিল্পী হিসাবে প্রথম বার তার ছোটপর্দায় আগমন। এর পরে ‘ভুতু’র হিন্দি সংস্করণেও দেখা গিয়েছিল তাকে। মাঝে ছোটপর্দা থেকে একেবারে দূরে সরে যায় সে। এ বার নতুন ভাবে দেখা যাবে আর্শিয়াকে। আগামী দিনে কি তাকে অভিনেত্রী হিসাবে দেখা যাবে? না কি রয়েছে অন্য পরিকল্পনা?
আর কিছু দিনের মধ্যে তাকে দেখা যাবে ‘স্বর্গরথ সরগরম’ ওয়েব সিরিজ়ে। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন এই সিরিজ়ের শুটিং করেছে সে। এর মাঝে অনেক নতুন ধারাবাহিকে অভিনয় করার সুযোগও এসেছে তার কাছে। কিন্তু পড়াশোনাকেই প্রাধান্য দিয়েছে আর্শিয়া এবং তার পরিবার। তা হলে আগামী দিনে অভিনেত্রী হিসাবে আর্শিয়াকে কি দেখা যাবে? না কি অন্য কোনও পেশার কথা ভেবেছে ছোটপর্দার ভূতু?
নতুন ওয়েব সিরিজ়ে আর্শিয়া। নিজস্ব চিত্র।
আর্শিয়ার কথায়,“আমি অভিনেত্রী হতে চাই। কিন্তু, গত দু’বছরে মনোবিজ্ঞান নিয়ে আমার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মনোবিদ হওয়ার একটা সুপ্ত ইচ্ছা তৈরি হয়েছে আমার মনে।” হঠাৎ কেন এই বাসনা তৈরি হল অভিনেত্রীর? কেন এই উপলব্ধি? আর্শিয়ার কথায়, “আসলে সময়ের সঙ্গে এই উপলব্ধি হয়েছে। আমি এখন ক্লাস ইলেভেন। দু-তিন বছর আগের কথা। তখন সম্ভবত সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। বার বার মনে হত, আমাকে সবার সেরা হতে হবে। প্রথম হতে হবে। সবাই যেন আমাকে সেরা বলে, এটা মনে হত। আর তা ছাড়া চেহারার গঠন তো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
কিছু দিন আগে এই একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছিল ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের লাজো ওরফে সাইনা চট্টোপাধ্যায়। আনন্দবাজার ডট কম-এর সাক্ষাৎকারে সাইনা জানিয়েছিল, একটা সময় সে নিজের চেহারার গড়ন নিয়ে খুবই ভাবত। মনে হত নাক বাঁকা। আর্শিয়া জানায়, তারও এই সমস্যা হয়েছিল। যা মা বা দিদির সঙ্গেও সে ভাগ করেনি। সে যোগ করে, “এত কিছু ভাবনা থেকেই বড় হয়ে মনোবিদ হওয়ার ইচ্ছা দৃঢ় হয়েছে। মানুষের অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। যেগুলো নিয়ে এখনও হয়তো কথা বলেন না কেউ। আবার অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে লজ্জা পান। আমি সেই জায়গাগুলো ভাঙতে চাই।”
এই মুহূর্তে কলাবিভাগের ছাত্রী আর্শিয়া। ইংরেজি, হিন্দি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছে সে। আর্শিয়া যোগ করে, “আমি বুঝতে পারছি না মনোবিজ্ঞান না কি মাস কমিউনিকেশন, কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করব।” তবে মনোবিদ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মনোবিজ্ঞান বিষয়কে বেছে নেওয়ার ইচ্ছাই খানিক বেশি রয়েছে আর্শিয়ার।