অন্দরসজ্জায় খুব জমকালো আয়োজন নজর টানে না। খুব বেশি সাজালে-গোছালে বাড়ির অন্দরসজ্জার গুরুত্ব যেন কোথায় হারিয়ে যায়! আর ঠিক সে কারণেই অন্দরসজ্জার ক্ষেত্রে পরিমিতি বোধটা দরকার। খুব বেশি সাজসজ্জা নয়। প্রয়োজনীয় আসবাবই যথেষ্ট। তবে তা সাজাতে হবে নিয়ম মেনে। ঘরের সাজসজ্জা মানেই শুধু চার দেওয়ালের সৌন্দর্য নয়, সেগুলি যেখানে মিশছে সেই সন্ধিস্থলটিও সাজাতে হবে যত্ন করে। গোটা ঘরের সাজসজ্জা পরিপাটি হলেও, ঘরের কোনা পড়ে থাকে হেলায়। অথচ সেই একফালি জায়গাই সাজানোর গুণে হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ঘরের কোনা সাজানোর নানা ধরন আছে, তা বেশ পরিচিত। তবে নতুন যে ধারাটি এসেছে তা কিছুটা ভিন্ন। এর নাম ‘ক্লাইমেট কর্নার’। ঘরের কোণটিতে সম্পূর্ণ আলাদা এক পরিবেশ তৈরি করাই এর মূল বৈশিষ্ট্য।
ক্লাইমেট কর্নার কী?
ইংরেজিতে ‘ক্লাইমেট’ বলতে জলবায়ু বোঝানো হয়, যা পরিবর্তনশীল। অন্দরসজ্জায় এর অর্থ হল পুরো ঘরের সাজসজ্জার ধরন এক রেখে, ঘরের যে কোনও একটি কোণ বা কর্নারকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে সাজিয়ে তোলা। সে জায়গাটি দেখতে ঘরের বাকি অংশের চেয়ে আলাদা হবে। আবহাওয়ার পরিবর্তনে সাজও বদলে ফেলা যাবে। যেমন প্রচণ্ড গরমের সময়ে ঘরের কোনাটিকে এমন ভাবে সাজালেন, যা ঘরের বাকি অংশের চেয়ে ঠান্ডা থাকবে। ঠিক উল্টোটা হবে শীতের সময়ে। আর এই রূপান্তরটি হতে পারে তিন পদ্ধতিতে—
ঘরের কোণা সাজানোর বিশেষ ধরন ‘ক্লাইমেট কর্নার’।
১) সবুজের ছোঁয়া
ঘরের কোণে স্নেক প্ল্যান্ট, পিস লিলি, জেড বা এরিকা পাম দিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা যায়। গাছপালা ঘরের ওই কোণটির বাতাসকে যেমন পরিশুদ্ধ করবে, তেমনই চোখের আরামও হবে। ঘরের কোণগুলিতে সাধারণত, বিশেষ ধরনের তাক রাখা হয়। সাধারণত সেগুলি বানানো হয় রট আয়রন, কাঠ অথবা কাচ দিয়ে। তার উপর নানা সুদৃশ্য ঘর সাজানোর জিনিস রাখা হয়। তাতে খানিকটা বদল আনা যেতে পারে। ঘরের যে কোনও একটা কোণে তাক রাখা হোক। মাটি থেকে ধাপে ধাপে উঠবে সেটি। তাতে সারিবদ্ধভাবে কিছু গাছ-সমেত টব রাখতে পারেন। নীচ থেকে উপর পর্যন্ত এভাবেই সাজানো যায়।
গাছপালা, বই বা বাহারি আলোতে সাজাতে পারেন ঘরের কোণ।
২) আলোর খেলা
পুরো ঘরে হয়তো উজ্জ্বল সাদা আলো রয়েছে, কিন্তু কর্নার ক্লাইমেটের জন্য ব্যবহার করতে পারেন ওয়ার্ম লাইট। সুন্দর ফ্লোর ল্যাম্প, ফেয়ারি লাইট বা সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘরের কোণটিতে একটি শান্ত এবং মায়াবী আবহ তৈরি করা হয়।
৩) টেক্সচার ক্লাইমেট
ঘরের কোণের রং আলাদা করা যেতে পারে। সেখানে সাদা, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল শেডের আসবাব ব্যবহার করুন। সে দিকে জানলা থাকলে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। ফলে সেই জায়গাটি ঠান্ডা থাকবে। একটি আরামদায়ক উইং চেয়ার বা বিন ব্যাগ, তার উপর নরম কুশন সাজিয়ে দিন। শীতের সময়ে তার উপরে কম্বল বা থ্রো-ব্ল্যাঙ্কেট রাখতে পারেন। মেঝেতে বিছিয়ে দিতে পারেন কার্পেট। যে কোনও একটি কোণে উঁচু একটি জায়গা তৈরি করুন। তার উপর ছোট ঝর্না রাখতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন, জল যেন জমতে না পারে।