E-Paper

রাজনীতির ছকেই বঙ্গে এসআইআর, দাবি যোগেন্দ্রের

ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া তো এখনও অসম্পূর্ণ। লক্ষ লক্ষ লোকের ভাগ্য ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনমাফিক ঝুলে থাকা ভোটার, যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ছিল, তাঁরা ভোটাধিকার পেতে পারেন। বা পুরনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট হতে পারে।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৬
যোগেন্দ্র যাদব।

যোগেন্দ্র যাদব। — ফাইল চিত্র।

একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন হলেও পশ্চিমবঙ্গে স্পষ্টতই কেন্দ্রের ইন্ধনে ভোটার তালিকা কাটছাঁটের চেষ্টা হয়েছে বলে সরব হলেন দেশের প্রথম সারির অর্থনীতিবিদ বা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা। এ রাজ্যে শিক্ষাবিদদের সংগঠন দ্য এডুকেশনিস্টস ফোরামের ডাকা সভায় রবিবার এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন রাজনৈতিক কর্মী তথা বিশেষজ্ঞ যোগেন্দ্র যাদব। তিনি বলেন, “এটা ভাবার কারণ আছে নরেন্দ্র মোদীর দলের জেতার সুবিধা হবে বলেই বাংলার ভোটার তালিকা ছক কষে কাটছাঁটের চেষ্টা হয়েছে। আমি আশা করব, সর্বোচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করবে।” যোগেন্দ্রের মতে, নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে ছক কষেই বেশ কিছু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মতেও, দেশের সংবিধানের ১৪২তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সম্পূর্ণ ন্যায়ের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করতেই পারে। সে-ক্ষেত্রে ট্রাইবুনালের বিচারের অপেক্ষায় থাকা বিবেচনাধীন থেকে বাদ-পড়া অন্তত ২৭ লক্ষ ভোটার সর্বোচ্চ আদালতের কাছে ইতিবাচক বিচার পেতে পারতেন।

দেশের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের প্রসঙ্গ তুলে প্রশান্ত ভূষণের সঙ্গে সভার সঞ্চালক তথা প্রাক্তন উপাচার্য, অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া তো এখনও অসম্পূর্ণ। লক্ষ লক্ষ লোকের ভাগ্য ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও জনপ্রতিনিধিত্ব আইনমাফিক ঝুলে থাকা ভোটার, যাঁদের নাম খসড়া তালিকায় ছিল, তাঁরা ভোটাধিকার পেতে পারেন। বা পুরনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোট হতে পারে।”

যোগেন্দ্রর মতেও, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে যাঁরা আপাতত বাদ পড়লেন তাঁদের মধ্যে ভোটের আগে বড়জোর গুটিকয়েকের ট্রাইবুনালের মাধ্যমে ভাগ্য খুলতে পারে। ভারতের যা দস্তুর, হয়তো নন্দলাল বসুর নাতির মতো পরিচিত বা বিশিষ্ট কেউ ভোটাধিকার পেতে পারেন। কিন্তু বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ ঘোর অনিশ্চয়তার দিকে ঝুঁকে থাকবে। তথ্যগ্রাহ্য অসঙ্গতির নামে যে কার্যত প্রহসন হয়েছে, তা বোঝাতে বেশ কয়েকটি নমুনা তুলে ধরেন যোগেন্দ্র। যেমন বালিগঞ্জের ভোটার সাদামুল হকের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে বাবার নাম লেখায় সামান্য হেরফেরে তিনি বাদ পড়েছেন। সাদামুলের বাবা ইফতিখারুলের নাম গত ভোটার তালিকায় নামের মাঝে একটি দূরত্ব রেখে ‘ইফতি খারুল’ লেখা হয়। যোগেন্দ্র বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের আগের ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিকত্বের প্রমাণ কমিশন দেখাতে পারেনি। কিন্তু একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই খসড়া থেকে চূড়ান্ত তালিকায় ৩৩ লক্ষ ভোটার কমেছে। সব রাজ‍্যেই ভোটার বেড়েছে। বিবেচনাধীন ভোটারও একমাত্র বাংলায় ছিল। শেষ পর্যায়ে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হয়েছে, তা অনেক পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে।”

বাংলার এই ভোটটা শুধু বাংলা নয় গোটা দেশের গণতন্ত্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে এ দিন দাবি করেন রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকরও। ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ়নেস ম্যানেজমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অখিল স্বামীও বলেন, “এমন এসআইআর হলে জরুরি অবস্থার পরের ভোটে ইন্দিরা গান্ধীকেও হারানো কঠিন হত।” রাজ্যের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক দেবনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা বহু মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন।” তবে যোগেন্দ্রের মতে, নির্বাচন কমিশন তার উপরে ন্যস্ত ‘দায়িত্ব’ পালন করলেও গণতন্ত্রে শেষ কথা মানুষই বলে। আমলা, নেতা বা বিচার বিভাগের বাইরে মানুষই অনেক কিছু নির্ধারণ করেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

SIR Election Commission Yogendra Yadav

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy